নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ায় আগুনে বাড়ি ও পাটের গোডাউন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করে উল্টো স্থানীয় কৃষকদল নেতার দায়েরকৃত নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন নূরজাহান বেগম (৬৫) নামের এক বয়োবৃদ্ধা নারী। রবিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশ ওসির কথা বলার কথা বলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিকেলে নাশকতার মামলায় সন্দেহভাজন আসামি দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর বসতবাড়িতে হামলা, আগুন ও লুটপাটের শিকার হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া আদালতে ৬২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছিলেন ভুক্তভোগী নূরজাহান বেগম।
ফৌজদারি কার্যবিধি এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নীতি অনুযায়ী প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ও আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রশাসনিক বিধান রয়েছে। কোনো মামলার বাদীকে প্রতারণামূলকভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের মামলায় চালান দেওয়া আইনগত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও পাল্টাপাল্টি মামলার বিষয়টি তদারকি করছে। এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ রোধে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।
গ্রেপ্তারকৃত বৃদ্ধার মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার বিচার চেয়ে আম্মা মামলা করায় পুলিশ ওসির কথা বলার অজুহাতে ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে জেলে পুরে দিল।”
নূরজাহান বেগমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, পুলিশ সকালে তুলে নেওয়ার পর সারা দিন পরিবারকে কোনো তথ্য না দিয়ে বিকেলে সরাসরি জেলে পাঠিয়ে দেয়।
জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকদল কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত নেতা হাবিবুর রহমানের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ওই বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
নিজের সর্বস্ব হারিয়ে বিচারের আশায় আদালতের দরজায় কড়া নেড়ে উল্টো ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার কারাবরণের এই ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসী ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধা কৃষকদল কার্যালয়ে হামলার সাথে জড়িত থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
