ফোরটিন ডেস্ক : রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে শরীরচর্চার সাধারণ হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরে ঢোকার চেষ্টার কারণে ম্যারাথন অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনকে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে রেখে চরম হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত এমআরটি পুলিশের বিরুদ্ধে। সাজ্জাদ হোসেনের পরনের পোশাককে ‘অশালীন’ আখ্যা দিয়ে জাকির নামের এক পুলিশ সদস্য তাঁকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে অন্যায়ভাবে দাঁড় করিয়ে রাখেন।
অভিযোগ ওঠার পর ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসেন ভিডিও প্রকাশ করলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে অশালীনতার কোনো সুস্পষ্ট সরকারি ড্রেস কোডের নিয়ম না দেখিয়ে উল্টো ক্ষমতার বাহাস করতে দেখা যায়।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আইন এবং ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (ডিএমটিসিএল) নির্ধারিত পরিচালন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো যাত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নীতি বা ড্রেস কোড বাধ্যতামূলক করা হয়নি। আইনের স্পষ্ট বিধান ব্যতিরেকে গণপরিবহনে যাত্রী চলাচলে বাধা প্রদান করা মৌলিক অধিকার হরণের শামিল।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং এমআরটি পুলিশ যৌথভাবে মেট্রোরেল কেন্দ্রিক সার্বিক জননিরাপত্তা রক্ষা ও পুলিশ সদস্যদের পেশাগত নৈতিক আচরণ তদারকি করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি রোধে পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহিতার প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা রয়েছে।
হেনস্তার শিকার সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “সকালে শরীরচর্চা শেষে ম্যারাথন প্রশিক্ষকের স্বাভাবিক পোশাক পরা সত্ত্বেও কোনো লিখিত নিয়ম না দেখিয়ে আমাকে অহেতুক ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।”
তিনি আরও জানান, এমআরটি কন্ট্রোল বোর্ডের এক নারী কর্মকর্তাও তাঁর ছবি তুলে নিয়ে যান এবং শর্টস খুলে ট্রাউজার পরা ছাড়া মেট্রোতে উঠতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ্লেষকরা এমআরটি পুলিশের এহেন অযাচিত আচরণকে চরম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা ও অহেতুক ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মেট্রোরেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রেনে ওঠানামার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পোশাক বিধি নেই, যা দায়িত্বরত পুলিশের সম্পূর্ণ ক্ষমতার অপব্যবহার।
জনসাধারণের দুর্ভোগ ও প্রশাসনিক হয়রানি এড়াতে ঘটনার নিবিড় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
