নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামে সাবেক সফল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের ঐতিহ্যবাহী পৈতৃক বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সন্ত্রাসীরা সুপরিকল্পিতভাবে ঐতিহাসিক এই কাঠের বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও সমাজসেবায় নিবেদিত এই পরিবারটির ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্রমাগত হুমকি ও অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিল স্থানীয় প্রতিপক্ষরা।
ফৌজদারি আইন ও দেওয়ানি সম্পত্তি সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী অন্য কারো ব্যক্তিগত বা স্থাবর সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা আইনত মারাত্মক অপরাধ। দেশের নাগরিকদের জানমাল ও পৈতৃক ভিটা সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা জরুরি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ও বাঞ্ছারামপুর থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই অগ্নিসংযোগের স্থানটি পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জড়িত দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ বজায় রাখা হয়েছে।
দরিকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল হক দানিস তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কার্যালয় ও বাসভবন ধ্বংসের কঠোর বিচার দাবি করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত যুবলীগ নেতা মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন আকুতি জানিয়ে বলেন, “এটি আমার বাবার আমলের প্রাচীন কাঠের ঐতিহ্যবাহী ঘর, প্রতিহিংসার কারণে এভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হবে তা ভাবতেও পারছি না।”
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জনপ্রিয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের পৈতৃক নিবাসে এমন নির্মম অগ্নিসংযোগ ও ঐতিহ্য বিনষ্টের ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত এজাহার পাওয়ার পরপরই জড়িতদের নাম প্রকাশ ও গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করা হবে।
