নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজার আগে রাতের আঁধারে একটি মন্দিরের নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুর করেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের গালান্ধি চৌরঙ্গী শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সকালে মন্দিরের প্রতিমার ক্ষতি সাধনের চিত্র সামনে এলে পুরো এলাকায় চরম অসন্তোষ ছড়ায় এবং তাত্ক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
দেশের সংবিধান ও ফৌজদারি দণ্ডবিধির সুনির্দিষ্ট আইন অনুযায়ী যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমার ক্ষতিসাধন বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনাবলী বলবৎ রয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা পুলিশ ও দেবীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনপূর্বক অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে বিশেষ আইনি তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করছে। উৎসবের মৌসুমে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দুজয় চন্দ্র মানিক বলেন, “রাতের আঁধারে কে বা কারা নির্মাণাধীন প্রতিমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলে রেখে যায়, যা সকালে দেখে সবাই হতবাক।”
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া জানান, “রাত ১২টার পর মণ্ডপটি পাহারা ছাড়া ফাঁকা থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙচুর চালিয়েছে, আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।”
এ ঘটনায় গালান্ধি চৌরঙ্গী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রাধানাথ বর্মন বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহৎ সামাজিক উৎসবের প্রাক্কালে এমন ন্যাক্কারজনক ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে দোষীদের অবিলম্বে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
