ফোরটিন ডেস্ক : সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সম্প্রতি হামলার শিকার হওয়া ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’-তে অনৈতিকভাবে পর্ন ভিডিও নির্মাণ করা হতো বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে হামলাকারীদের সূত্রের বরাত দিয়ে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিজীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে এই মারাত্মক ও বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সেই পোস্টে খোকন উল্লেখ করেন যে, প্রকাশ্যে নীতিকথার বার্তা ছড়ানো অনেকের নিজস্ব যাপন ও নীতিগত অবস্থানের মধ্যে বিশাল ফাঁক ও বৈপরীত্য রয়েছে।
বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বিধান অনুযায়ী অননুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল বা অনৈতিক উপাদান তৈরি ও প্রচার করা মারাত্মক আইনি অপরাধ। সাইবার অপরাধ দমন ও কন্টেন্ট তদারকিতে রাষ্ট্রীয় আইনি ধারা কঠোরভাবে প্রয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যৌথভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর কন্টেন্ট ও বেআইনি কার্যকলাপ মনিটরিং তদারকি করে আসছে। ইন্টারনেটের সুস্থ পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক তদারকি প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখা হয়েছে।
আশরাফুল আলম খোকন তাঁর ফেসবুক পোস্টে আরও জানান যে, বিএনপি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগেই সালমান দেশ ছাড়ার কথা বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন।
তিনি লেখেন, “অনেক নেটিজেন বা সেলিব্রেটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীতি বাক্যের বন্যা দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তার ন্যূনতম প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায় না।”
খোকনের এই বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের পর সালমান মুক্তাদিরের অনুসারী ও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে চরম তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যক্তিত্বদের কন্টেন্ট ও ব্যক্তিজীবন ঘিরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি মন্তব্য পুরো মাধ্যমটিতে নতুন চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সাইবার ক্রাইম ও অশ্লীলতার এসব অভিযোগ তদন্তে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
