ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থাকে সংকুচিত করে সংসদে বিতর্কিত ৩টি আইন অনুমোদনের তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মানবাধিকার সুরক্ষায় নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
বুধবার এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ অভিযোগ করে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা খর্ব করে এবং র্যাবের শুধু নাম পরিবর্তন করে ‘এসআরবি’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সনদ সংক্রান্ত সংবিধানের মৌলিক অনুচ্ছেদ এবং আইনি কাঠামো অনুযায়ী আইন পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে স্বাধীন কমিশন পরিচালনা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক তদারকি বহাল রাখা আবশ্যক।
আইন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে সদ্য পাস হওয়া আইনগুলোর সংশোধনী প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে। বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও সুশাসন নিশ্চিতে যেকোনো আইন পাসের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বজায় রাখা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গুম ঠেকানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর অপরাধ তদন্তে কমিশনকে যে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছিল, নতুন আইনে বিএনপির সরকার তা পুরোপুরি দুর্বল করে দিয়েছে।
এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেন পিয়ারসন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অতীতের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন যাতে ফিরে না আসে, সেজন্য জবাবদিহিমূলক সংস্কার ও স্বাধীন তদন্ত ক্ষমতার কোনো বিকল্প নেই।”
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে যে, হত্যা ও গুমের ঘটনা কিছুটা কমলেও বিএনপির নতুন সরকারও আগের সরকারের মতো রাজনৈতিক বিরোধীদের বিনা বিচারে আটকে রাখার পুরনো সংস্কৃতি বজায় রেখেছে।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়েছেন দেশীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।
এইচআরডব্লিউ জোর দাবি জানিয়েছে যেন নিরাপত্তা বাহিনীর উপর কার্যকর নজরদারি এবং গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ চিরতরে বন্ধ করতে অবিলম্বে এসব আইনে সংশোধনী আনা হয়।
