নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির টানা প্রভাবে বাস ভাড়ার পর এবার নৌপথেও বাড়ল লঞ্চের ভাড়া। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে নৌযান মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকে প্রতি কিলোমিটারে পরিমাপিত ভাড়া ২৩ পয়সা বাড়ানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
একইসাথে ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের গন্তব্যে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন হার নির্ধারিত হয়েছে। এই সমন্বয়ের ফলে নৌপথে সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ টাকায় উন্নীত হলো।
অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল আইন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সরকারি ট্যারিফ বিধিমালা অনুসরণ করে নতুন এই ভাড়ার তালিকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান নৌপথ ও বন্দরগুলোতে যাত্রীদের সুবিধার্থে হালনাগাদকৃত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখার সরকারি নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) যৌথভাবে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার পূর্ণ বাস্তবায়ন তদারকি করছে। দেশের কোনো লঞ্চ টার্মিনালে বা নৌপথে মালিকরা যাতে নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমকে জানান, তেলের দাম ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাড়লেও মালিকদের দাবিকৃত ২৫ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যা জনস্বার্থে নেওয়া এক যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর যাতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে ভাড়ার হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।”
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে সংকট ও দেশে তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সার্বিক ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি অবধারিত হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করে বিআইডব্লিউটিএ।
স্বল্প ব্যবধানে বাসের পর লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী দূরপাল্লার সাধারণ নদীপথের যাত্রীদের মাঝে আর্থিক চাপজনিত অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী কার্যদিবস থেকেই দেশের সকল রুটের যাত্রীবাহী নৌযানে এই নতুন ভাড়া কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হবে।
