ফোরটিন ডেস্ক : জুলাই ও আগস্ট মাসের রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতদের প্রতিটি মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনর্মূল্যায়ন, পোস্টমর্টেম ও নিরপেক্ষ ফরেনসিক পরীক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সে সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ব্যবহৃত স্নাইপার রাইফেল এবং ৭.৬২ মিমি বোরের বুলেটের প্রকৃত উৎস নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রতিটি লাশ তুলে পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক করা হবে। আন্দোলনকালে স্নাইপার রাইফেল কারা ব্যবহার করেছে আর ৭.৬২ বুলেট কোত্থেকে এলো তার সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে।”
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনের আড়ালে সুযোগ নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত তৃতীয় পক্ষ ও চক্রান্তকারী গোষ্ঠী এই হত্যা ও নৃশংস সহিংসতা চালিয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাধারণ ব্যবহারের বাইরে থাকা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মারণাস্ত্র ও নির্দিষ্ট বোরের বুলেট কীভাবে রাজপথে এল এবং কারা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তার প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করতে বড় ধরনের নাশকতামূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার এই সাম্প্রতিক ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
