নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : স্পিডবোট ঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও সেই সূত্রে বোট বন্ধ থাকার বলি হলেন ৭০ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন। জটিল শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পথে নৌযান না পেয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গুপ্তছড়া ঘাটেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট, ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজ উদ্দিন সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের কাসেম মার্কেটসংলগ্ন রহমতেরগো বাড়ির বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, লিভারজনিত মারাত্মক অসুস্থতায় মঙ্গলবার রাতে তাঁকে স্থানীয় গাছুয়া স্বাস্থ্য প্রকল্পে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রামে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সকাল ৯টার দিকে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে গুপ্তছড়া ঘাটে পৌঁছান। কিন্তু ঘাটে গিয়ে তারা জানতে পারেন, চিহ্নিত চক্রের অব্যাহত চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে ইজারাদার পক্ষ থেকে সব স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাটা থাকার কারণে সেসময় ফেরি বা অন্য কোনো বিকল্প নৌযান চলাচলের উপায়ও ছিল না। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য ঘাটে দুই ঘণ্টা আকুতি জানিয়ে অপেক্ষা করতে করতেই নিভে যায় এই মুক্তিযোদ্ধার জীবনপ্রদীপ।
স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন নয়ন জানান, বিগত দুই দিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র ঘাটের কাউন্টারে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও টাকা ছিনতাই করছে। কর্মচারীদের নিরাপত্তা না থাকা পর্যন্ত বোট চালানো সম্ভব নয়। তবে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক নয়ন শীল একে অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব দাবি করে লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধার এমন মৃত্যুর ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে দ্রুত স্পিডবোট চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন—চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ দিতে হলো, এই নির্মম মৃত্যুর দায় আসলে কে নেবে?
