ফোরটিন ডেস্ক : সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা—টানা ১২ ঘণ্টার একটানা হাড়ভাঙা খাটুনি। ঘামে শরীর ভিজে একাকার হলেও সেই ঘামটুকু মুছে নেওয়ার মতো কয়েক সেকেন্ড সময় মেলে না। সামান্য এক বা দুই পিস পোশাকের উৎপাদন কম হলেই জুটছে গালাগালি আর গায়ে হাত তোলা। অসুস্থ সন্তানের জন্য আধা ঘণ্টার গেটপাস কিংবা স্বজন হারানোর দিনে ছুটির আবেদন করতে গেলেও কারখানার বড়কর্তাদের পায়ে ধরতে হয়। বিশ্ববাজারে কোটি কোটি টাকার পোশাক রপ্তানির চাকচিক্যের আড়ালে এভাবেই প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ পোশাক শ্রমিকেরা।
শিল্পাঞ্চলের এক নারী শ্রমিকের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে কারখানার ভেতরের দাসত্ব আর বাইরের বাজারের নির্মম কষাঘাতের কথা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসে ঘাম ঝরিয়ে ওভারটাইমসহ বেতন পান মোটে ১৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে যে বাসার ভাড়া একসময় ৬ হাজার ছিল, তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে আট হাজার টাকায়। গ্যাস বিল ১ হাজার ৪০০ থেকে লাফিয়ে হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে মাস শেষে বেতনের ১০ হাজার টাকাই চলে যায় বাড়িওয়ালা আর ইউটিলিটি বিলের পেছনে।
হাতে অবশিষ্ট থাকা মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মাসজুড়ে নিজেরা কী খাবেন, সন্তানদের পেটে কী দেবেন, কিংবা বাচ্চার স্কুলের বেতন ও পড়াশোনার খরচ কীভাবে মেটাবেন—সেই চরম অনিশ্চয়তায় দিশেহারা হতে হচ্ছে। রাস্তায় শত যানজট পেরিয়ে কারখানায় ঢুকতে মাত্র এক মিনিট দেরি হলেই হাজিরা থেকে একবারে কেটে নেওয়া হচ্ছে ৭২৫ টাকা।
শ্রমিকদের আক্ষেপ, নিত্যপণ্যের বাজারে সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়েছে, কারখানায় কাজের চাপ আর উৎপাদনও বেড়েছে, অথচ শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি বাড়ছে না। দেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের কারিগর হয়েও সামান্য সম্মানের সঙ্গে দুমুঠো ডাল-ভাত খাওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না তাদের ভাগ্যে।
