নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার আবেদনে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। কোথাও আর্থিক অসচ্ছলতার ভিত্তিতে আবেদন ফি মওকুফের অনুরোধ করা যায়, আবার কোথাও নির্দিষ্ট ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্যসেশন বা ওপেন হাউসে অংশ নিলে এ সুবিধা পাওয়া যায়। তবে আবেদন ফি মওকুফ পাওয়ার অর্থ পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ পাওয়া নয়। ভর্তি, আবেদন ফি মওকুফ ও পড়াশোনার অর্থায়নের ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত পূরণ করতে হয়।
স্টকটন ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক কারণে আবেদন ফি দিতে অসুবিধা হলে ফি মওকুফের অনুরোধ জানানোর সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের গ্র্যাজুয়েট স্কুলেও আর্থিক প্রয়োজন বা সংকটের ভিত্তিতে ফি মওকুফ চাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। যোগ্যতা ও প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় ধরনের আবেদনকারী এ সুবিধা পেতে পারেন।
ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েও আবেদন ফি সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। স্টিভেন্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনসের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভর্তি-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের আবেদন ফি মওকুফ করা হয়। ভার্চুয়াল ওপেন হাউসের ক্ষেত্রেও এ সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান-ডিয়ারবর্নের গ্র্যাজুয়েট ইভেন্টস-সংক্রান্ত তথ্যেও অংশগ্রহণকারীদের জন্য ফি মওকুফের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ নীতিতে ফি মওকুফের সুযোগ সীমিত এবং আগে আবেদনকারীদের আগে বিবেচনার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ও প্রোগ্রামের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়টির লিবো কলেজ অব বিজনেসের এমবিএ ও বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রামের আবেদন-সংক্রান্ত কিছু কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য ফি মওকুফের সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই যেকোনো ভার্চুয়াল সেশনে অংশ নিলেই বিশ্ববিদ্যালয়টির সব প্রোগ্রামে আবেদন ফি মওকুফ পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের ঘোষণায় এ সুবিধার উল্লেখ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
কিছু প্রোগ্রামে আবেদন ফি নেওয়াই হয় না। লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি প্রোগ্রামের সম্ভাব্য আবেদনকারীদের জন্য প্রকাশিত তথ্যে আবেদন ফি না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি বিভাগের এ নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্য বিভাগ বা ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
আবেদন ফি মওকুফ ও পূর্ণ অর্থায়নের মধ্যে পার্থক্য ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের তথ্যেও স্পষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়টির গ্র্যাজুয়েট স্কুলে টিউশন স্কলারশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। মাস্টার্স প্রোগ্রামভেদে সহায়তার পরিমাণও ভিন্ন হতে পারে। কোনো প্রোগ্রামে টিউশন ফি বাবদ সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি স্টাইপেন্ডও দেওয়া হয়।
নটর ডেমের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট প্রেসিডেনশিয়াল ফেলোশিপে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও বিবেচিত হন। এ ফেলোশিপের আওতায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সম্পূর্ণ টিউশন ফি এবং প্রোগ্রাম অনুযায়ী বছরে ৩৮ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ ডলার স্টাইপেন্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ ব্যয়ও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে এসব সুবিধা নির্দিষ্ট ফেলোশিপের জন্য প্রযোজ্য; বিশ্ববিদ্যালয়টির সব আবেদনকারীর জন্য নয়।
আবেদন ফি মওকুফ ও পূর্ণ অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে প্রকাশিত ‘৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা’ সম্পর্কেও একটি সংশোধনী প্রয়োজন। তালিকায় লয়োলা ইউনিভার্সিটি শিকাগোর দুটি প্রোগ্রামকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়েছে। ফলে ৩০টি ক্রমিক থাকলেও পৃথক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯টি। এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের কোন ক্যাম্পাসকে বোঝানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ভিত্তিতে সেখানকার সব প্রোগ্রামে একই ধরনের সুবিধা রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে আগ্রহীদের প্রথমে পছন্দের ডিগ্রি ও বিভাগ নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশনস ও ফান্ডিং-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেখে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, আবেদন ফি মওকুফের পদ্ধতি এবং অর্থায়নের শর্ত যাচাই করতে হবে। অর্থায়নের প্রস্তাব পেলে কত বছরের টিউশন ফি দেওয়া হবে, কত মাসের স্টাইপেন্ড পাওয়া যাবে এবং স্বাস্থ্যবিমার কতটুকু ব্যয় বহন করা হবে—এসব বিষয় লিখিত প্রস্তাবের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
