নিজস্ব প্রতিবেদক, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল, ইনক. ইউএসএ। সংগঠনটি এ ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট বিচারিক নথিপত্র প্রকাশ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক এটর্নি মঈন চৌধুরী উল্লেখ করেছে, ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে কনস্যুলার যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার এবং ৩৭(ক) অনুচ্ছেদে বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সংগঠনটি স্বীকার করেছে, এই কনভেনশনে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে আগাম অবহিত করার নিঃশর্ত বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নেই। এ কারণে কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ, আইনজীবীর সহায়তা, অভিযুক্তদের অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি তথ্যভিত্তিকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি আরব সরকারের প্রতি সংশ্লিষ্ট বিচারিক নথিপত্র বাংলাদেশ সরকারের কাছে সরবরাহ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এবং নিহতদের কনস্যুলার অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি তাদের এখতিয়ারের আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ভবিষ্যতে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর কনস্যুলার যোগাযোগ, উপযুক্ত আইনি সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক, আইনি ও মানবাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা তারা পর্যালোচনা করবে।
ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল, ইনক. ইউএসএর নির্বাহী পরিচালক মঈন চৌধুরী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনটির মতে, বিদেশে কোনো নাগরিক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলে তার আইনি অধিকার ও কনস্যুলার সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
