নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি যদি বি-১/বি-২ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পেশাগতভাবে বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সংগীত পরিবেশন করে থাকেন, তাহলে তা মার্কিন অভিবাসন আইনের বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে। বিষয়টি ঘিরে উঠছে ভিসার শর্ত মেনে চলার প্রশ্ন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি, পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পারফরম্যান্স কিংবা অর্থপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে পেশাগতভাবে সংগীত পরিবেশন অনুমোদিত নয়। পেশাদার শিল্পীদের জন্য সাধারণত উপযুক্ত কর্মভিত্তিক ভিসা (পি-৩) প্রয়োজন হয়। তবে কোনো শিল্পীর ক্ষেত্রে কোন ভিসা প্রযোজ্য হবে, তা তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পারফরম্যান্সের ধরন ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে দেশীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। এসব অনুষ্ঠানের আয়োজনের ক্ষেত্রে শিল্পীর ভিসার ধরন, পারফর্ম করার অনুমতি এবং আয়োজকদের আইনগত দায়িত্ব নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মিলার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কোন ধরনের ভিসা ব্যবহার করেছেন, তাঁর পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং এসব অনুষ্ঠানের সঙ্গে পারিশ্রমিকের কোনো বিষয় যুক্ত আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এসব তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পুরতান ও অভিজ্ঞ আয়োজকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে কোন শিল্পী এসে পারফর্ম করতে চাইলে অবশ্যই তাকে পি-৩ ভিসা নিয়ে আসতে হবে। অনেক নতুন আয়োজক হয়ত সেটা জানেন না তাই তারা সেটা করছে। কিন্তু সুদুর প্রসারে এর প্রভাব সকল বৈধ ভিসার মাধ্যমে যেসব শিল্পী আসবে বা আসতে চায় তাদের উপর পরবে যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিসা বাতিল, ভবিষ্যতে ভিসা পেতে জটিলতা কিংবা অন্যান্য অভিবাসনগত পরিণতি হতে পারে। তাই বিদেশি শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও ভিসার শর্ত সম্পর্কে আগেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
