নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও চালকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ‘আরপি স্পেশাল পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি যানবাহনই দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই একাধিক যাত্রী মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতাল, স্থানীয় ক্লিনিক ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর নিহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি দেখা দিলে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখারুল আলম স্পষ্ট করে জানান, নিহতের সংখ্যা ১২ জন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক সমন্বয়হীনতার কারণে ১৪ জনের কথা বলা হলেও নিশ্চিত তথ্যানুযায়ী নিহত ১২ জনের মরদেহ বর্তমানে বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে।
নিহতরা হলেন— শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার আব্দুস সামাদ ফকির (৭০), জুয়েল (৪০), সালাম মোল্লা (৪৬), কাশেম (৩৫), শাহীন (৩২) ও শহিদুল ইসলাম (৪৫); রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০); নওগাঁর সান্তাহারের রাসেল আলী (৩৩); ফরিদপুর সদরের হিমেল জামাদার; পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৮ বছরের শিশু তাসফিয়া; দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের চালক ঝিনাইদহের আবুল কালাম (৫৬) এবং বাসের চালক রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মো. সোহেল রানা (৪০)।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি জানান, মারাত্মক এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি।
