নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনা পরোয়ানায় আটক মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে বিনা পরোয়ানায় বা যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ দিতে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইনড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ (Justice for Citizens Wrongfully Detained by ICE Act) নামের বিলটি উত্থাপনের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; ফলে একে কার্যকর আইন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বিলটির মূল লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা বা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো সংস্থার সদস্য বিনা পরোয়ানায় এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক করলে, ওই নাগরিক যেন আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুস্পষ্ট আইনি সুযোগ পান।
বিলটির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট পরিমাণ। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতে কোনো নাগরিকের দাবি প্রমাণিত হলে তাঁকে পাঁচ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকের প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও এক লাখ ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তিসংগত আইনজীবীর ফি, আদালতের খরচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের ঘোষণামূলক বা নির্দেশনামূলক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও থাকবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো নাগরিক প্রথম দিনের পর আরও পাঁচ দিন আটক থাকলে প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী তাঁর ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ লাখ ডলার। তবে এ ক্ষেত্রে বিলটি আইনে পরিণত হওয়া এবং আদালতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক।
প্রস্তাবিত আইনটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরের সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বিলটি পাস হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকেরা অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু আটক-ঘটনার জন্যও মামলা করার সুযোগ পেতে পারেন। মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ধরনের মামলায় ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ (Qualified Immunity) বা ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’ (Absolute Immunity) ব্যবহার করে দায় এড়ানোর সুযোগ পাবেন না। একই সঙ্গে এসব মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তার সার্বভৌম দায়মুক্তির সুরক্ষা ত্যাগ করবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
বিলটির পেছনে রয়েছে অভিবাসন অভিযান চলাকালে মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করার অভিযোগ। প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার (ProPublica) এক অনুসন্ধানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ওই তালিকায় শিশুদের পাশাপাশি অভিবাসন অভিযান ভিডিও করার সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ৫০৬ জনের এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে; এটি আদালতের চূড়ান্ত রায়ে অবৈধভাবে আটক প্রমাণিত ব্যক্তিদের সংখ্যা নয়।
বিলটি শুধু ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে অভিবাসন-সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট তহবিলের যেসব অর্থ এখনো বরাদ্দ করা হয়নি বা ব্যয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিধানও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত বিলটি একদিকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে অন্যায়ভাবে আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের আইনি প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ তৈরির বিষয়টি সামনে এনেছে। অন্যদিকে, অভিবাসন আইন প্রয়োগে ব্যবহৃত সরকারি অর্থের বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনেরও প্রস্তাব করেছে।
