নিজস্ব প্রতিবেদক, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ইলিশ সহ বিভিন্ন প্রজাতির সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ করে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লক্ষ্ণীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাটে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে একাধিক সিন্ডিকেট চক্র অবাধে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের সুযোগ নিয়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকারের রীতিমতো উৎসবে নামেন রাজনৈতিক সিন্ডিকেট চক্রগুলো । এসব ইলিশ কিনার জন্য সন্ধার পর থেকে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে শত শত ব্যবসায়ীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি মাছঘাটে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। রামগতি উপজেলার বিবিরহাট ওছখালী, ব্রীজঘাট, আসলপাড়া, টাঙ্কিরঘাট, আলেকজান্ডার, বালুরচর, বাংলা বাজার ও কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, নবীগঞ্জ, নাজিরগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, লুধুয়া ও পাটারিরহাট এলাকার মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বিচারে চলছে মা ইলিশ শিকার।
গোপন সংবাদের ভিক্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধার পর রামগতি বাজার মাছঘাট সংলগ্ন মান্তাপাড়া নামক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাছ কিনতে প্রচুর বেপারি অপেক্ষামান। সাংবাদিকদের উপস্থিত দেখে বেশ কয়েকজন বেপারী মোটরসাইকেল নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় জেলে ও মাছ বেপারীরা জানান, বিকেলে ৮ থেকে ১০ টি নৌকা মাছ শিকারে নদীতে যায়। রাত ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যে মাছ নিয়ে তারা ঘাটে আসে।
তাদের অপেক্ষা ক্রেতা ও বেপারী দাঁড়িয়ে রয়েছে। আবার সারারাত ধরে ১২ থেকে ১৫ টি নৌকা মাছ শিকার করে ভোরে ঘাটে আসে। তখন মানুষের ভীড় আরও বেশী হয়। এসব নৌকা কার বা কাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত তিনজন বেপারি জানান, এগুলো লক্ষ্ণীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির কর্মী ডলার নোমান ও হালিম মাঝির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মা ইলিশ ধরার মহোৎসব। চলে সারারাত ধরে। এবং রাতে বেশ কিছু নৌকা ও ট্রলার নিয়ে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে পড়েন মেঘনায়। নদীতে নামা জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর, ডলার নোমান ও হালিম মাঝির সিন্ডিকেট চক্র তাদেরকে নদীতে মাছ শিকারের সহায়তা করছেন।
মাছ কিনতে আসা সিরাজ উদ্দিন, রফিক মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে তারা প্রায় এসে এ স্থান থেকে মাছ নিচ্ছেন। শুধু তারা নয়, প্রায় ২ শতাধিক বেপারি নিয়মিত মাছ ক্রয় করছেন। পেটের দায়ে এবং ঋণের কারণে জেলেরা নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছে। পুলিশ সহ সকল সাইড ম্যানেজের দায়িত্ব রয়েছেন ছাত্র নেতা জাহাঙ্গীর আলম, ডলার নোমান ও হালিম মাঝি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজনীতি করার কারণে তার পক্ষে বিপক্ষে শত্রু রয়েছে। তারা হয়তো এমন অভিযোগ করলেও করতে পারে। তবে তিনি এ কাজের সাথে জড়িত নন।
রামগতি উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শিবলী নোমান বলেন, সরকারের আইন অনুযায়ী ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এসময় কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নদীতে মাছ শিকারে সহায়তা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। অপরাধীর পরিচয় অপরাধী।
রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, জনবল সংকট সহ নানা কারণে এ বিশাল নদী পাহারা দিয়ে রাখাটা কষ্টকর। তবুও সাধ্য অনুযায়ী নৌ-পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।
