নিজস্ব প্রতিবেদক,সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে এসআরবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, আমিনীকে এসআরবি-৬ এর সাতক্ষীরা কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। আজ রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গত মঙ্গলবার দেবহাটায় দুই দফা হামলা চালিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৫)। এ ঘটনায় তার বড় ভাই আবদুল জলিল বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতার’ নেতা ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়। এর আগে শুক্রবার ভোরে এ মামলায় এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও আসাদুল ইসলাম মোল্লা (৪৬)।
নিহতের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও রাতে দুই দফা শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদুজ্জামান শামীম উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে। তিনি মাদ্রাসা থেকে কামিল পাসের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ৮ বছর ও ৭ মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে তার। কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল।
এর আগে আমিনী প্রথম দফার হামলার কথা স্বীকার করলেও দ্বিতীয় দফার হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
