ফোরটিন ডেস্ক : টেলিভিশনের পর্দায় নিজেকে উপস্থাপন করেছেন ঝানু আইনি বিশ্লেষক হিসেবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নামের পাশে জুড়ে দিয়েছেন ‘অ্যাটর্নি’ তকমা, এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন আইনজীবী হিসেবে। অথচ সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব কেটি জাকারিয়াই এবার স্বীকার করলেন—যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতাসূচক ‘বার পরীক্ষা’য় কোনোদিনই পাস করতে পারেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার জ্যাক পোসোবিয়েকের মুখোমুখি হয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করেন কেটি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর তিনি জানান, ২০১১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় বার পরীক্ষায় বসেছিলেন ঠিকই, তবে অকৃতকার্য হন। এরপর দেশটির অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যেও লাইসেন্স পাওয়ার পরীক্ষায় আর পাস করা হয়ে ওঠেনি তাঁর। যদিও পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন, তবে আইনচর্চা বা আইনি পেশা পরিচালনার জন্য যা মার্কিন বিধানে কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।
এতদিন নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেননি বলে দাবি করলেও বাস্তব নথিপত্র উল্টো কথাই বলছে। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের আলাস্কা সফরের সময় সাংবাদিকরা লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, পরীক্ষার পরই তিনি চীন চলে যান এবং সেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক আইনে কাজ করেছেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী চীনে কোনো বিদেশি নাগরিকের নিজস্ব উদ্যোগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ নেই।
বিতর্কের পারদ আরও চড়েছে সিএনএনের এক অনুসন্ধানে। গত দুই বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ১৫টি পোস্টে কেটি নিজেকে সরাসরি ‘অ্যাটর্নি’ হিসেবে দাবি করেছেন। এর আগে ফক্স নিউজকেও তিনি বলেছিলেন, বেইজিংয়ে তিনি তিন বছর করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।
এদিকে সনদ ছাড়া এভাবে নিজেকে আইনজীবী বা আইনচর্চাকারী হিসেবে উপস্থাপন করায় বিষয়টি গড়িয়েছে আইনি অভিযোগ পর্যন্ত। বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে কেটির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে একটি বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা। অঙ্গরাজ্যটির আইন ও পেশাসংক্রান্ত বিধির আলোকে এই মিথ্যা পরিচয় দেওয়া বেআইনি কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক নোরা ফ্রিম্যান ইংস্ট্রমের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইন খুব স্পষ্ট—আদালতে মামলা না লড়লেও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কেউ নিজেকে আইনজীবী দাবি করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন যথারীতি অভিযোগকারী সংস্থাকে ‘ট্রাম্পবিরোধী চক্র’ বলে উড়িয়ে দিয়ে প্রেস সচিবের পাশেই দাঁড়িয়েছে।
