ফোরটিন ডেস্ক : দুপুরের বিরতি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন পেশায় কাঠমিস্ত্রি কাইলুব জিয়াম্বাঙ্কো। পথিমধ্যে হঠাৎ ভেসে আসে একের পর এক গুলির বিকট শব্দ। শব্দের উৎস স্থানীয় সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুল, যেখানে তাঁর নিজের দুই মেয়েও পড়াশোনা করে। এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি কাইলুব; নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত লুকানো অস্ত্র হাতে নিয়ে সোজা দৌড়ে ঢোকেন স্কুলের সীমানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে ঘটে যাওয়া এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর্দা নামে কাইলুবের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, দরজার কাচ ভেঙে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্লাসরুমে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে ১৬ বছর বয়সী হামলাকারী জন জে. গ্রিফিন। কালবিলম্ব না করে ক্লাসরুমে ঢুকেই বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান ৩৬ বছর বয়সী এই বাবা। ঘটনাস্থলেই গুলিতে লুটিয়ে পড়ে হামলাকারী গ্রিফিন।
কাইলুবের দ্রুত পদক্ষেপ আরও বহু অবুঝ শিশুর জীবন বাঁচালেও ততক্ষণে ঘটে গেছে অপূরণীয় ক্ষতি। বন্দুকধারীর নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারায় ৫, ৮ ও ১১ বছর বয়সী তিন শিশু এবং তাদের ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে লড়ছে ৭ বছরের এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষক।
এই দুঃসাহসিক ভূমিকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘মহান বীর’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে চারপাশের এই প্রশংসা বা বীরের তকমা স্পর্শ করতে পারছে না কাইলুবকে। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, এত মানুষকে বাঁচানোর পরও কাইলুব নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। কয়েক মিনিট আগে পৌঁছাতে পারলে হয়তো ওই শিক্ষক আর শিশুদেরও বাঁচানো যেত—এই তীব্র অপরাধবোধ আর বিষাদ তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। যে কারণে কোনো প্রচার বা সাক্ষাৎকারে না গিয়ে নিজের দুই মেয়ে ও পরিবারকে নিয়ে নিভৃতে সময় কাটাতে চেয়েছেন তিনি।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারী কিশোর তার মায়ের কেনা ১২-গেজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান নিয়ে স্কুলে হানা দিয়েছিল। একজন শিক্ষকের প্রাথমিক প্রতিরোধ এবং শেষ মুহূর্তে দুই কন্যার বাবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চালানো পাল্টা গুলিতেই থমকে যায় এই মারণযজ্ঞ।
