বাচ্চা গর্ভে নিয়ে আমি রিটেন পরীক্ষা দিয়েছি, জীবনের রিস্ক নিয়ে ছুটেছি, আমার গেজেটটা দিল না” সাত বছরের অবিরাম লড়াই আর সব বাধা পেরিয়ে বিসিএসের শীর্ষ মেধাতালিকায় জায়গা করেও শেষ মুহূর্তে নিয়োগবঞ্চিত এক নারীর এই আহাজারি এখন নাড়া দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে। ৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে জাতীয়ভাবে ১১তম স্থান অর্জন করেও চূড়ান্ত নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুমি আক্তার।
গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। সুমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। টানা তিনটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পার হতে না পারলেও দমে যাননি। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর নিজের একাগ্রতায় ৪৫তম বিসিএসে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ক্যাডারে ১১তম এবং ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে ৬৭তম স্থান অধিকার করে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সুমি জানান, বিসিএসকে কেন্দ্র করে তাঁর জীবনের সাতটি মূল্যবান বছর কেটেছে। মাতৃত্বের ঝুঁকি নিয়ে জীবনের কঠিনতম সময়ে পরীক্ষা দিয়ে অর্জিত এই সফলতার পর গেজেট থেকে নাম উধাও হয়ে যাওয়ায় পুরো পরিবারকে নিয়ে এখন ঘোর অন্ধকারের মুখোমুখি তিনি। সুমির দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসন যেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় এবং কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে যেন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে সুমির স্বামী এম এ তাহেরও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। স্ত্রীর দীর্ঘ প্রস্তুতি, সংসার ও সন্তানসম্ভবা অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার চরম সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তাহের প্রশ্ন তুলেছেন, যথাযথ সুপারিশ পাওয়ার পরও কী কারণে তাঁর স্ত্রীর নাম গেজেট থেকে বাদ পড়ল?
তবে স্বামীর সাবেক রাজনৈতিক পরিচয়ের জেরেই সুমিকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। মেধার প্রমাণ দিয়েও শেষ মুহূর্তে এভাবে থমকে যাওয়ার ঘটনায় তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মনেও তৈরি হয়েছে গভীর ক্ষোভ আর অসন্তোষ। নিজের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন চেয়ে এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জবাবের অপেক্ষায় সুমি আক্তার।
