কূটনৈতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘিরে নানা আলোচনা ও জল্পনা চললেও, ভারতের মাটিতে কোনো সাধারণ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অতিথির মর্যাদায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থানের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর প্রাপ্য প্রটোকলে কোনো ধরনের ছাড় দেয়নি ভারত সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)-সহ দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা ইউনিটগুলোর প্রত্যক্ষ ও সমন্বিত নজরদারিতে তাঁর আবাসস্থল ও সার্বিক চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর কূটনৈতিক সম্পর্ক ও শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ছড়ানো হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতের নীতিনির্ধারক ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়টিকে কেবল কোনো সাময়িক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ হিসেবে দেখছে না; বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের ঐতিহাসিক ও রক্তস্নাত সম্পর্কের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা এবং প্রতিবেশী দেশের একজন দীর্ঘমেয়াদি শীর্ষ নেতার সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো আপস করেনি। এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সরকার পরিবর্তন হলেও প্রতিবেশীর সাথে দীর্ঘদিনের মিত্রতা এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের জায়গায় নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েনি নয়াদিল্লি।
