নিজস্ব প্রতিবেদক
“বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, আমি একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি”— স্ত্রীকে এ কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে নিহত হয়েছেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌনে আটটার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামক একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে ভিডিও ও অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লুৎফুজ্জামান শ্বশুরবাড়ির কাছেই চায়ের দোকানে চা খেয়ে রওনা দেওয়ার মুহূর্তে নিজের মুঠোফোন ফেলে গেছেন বুঝতে পেরে ফেরত আসেন। ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী দুই যুবক অতর্কিত সেখানে উপস্থিত হয়ে রবিন রাংসা নামের দোকানদারের কাছে সিগারেট চায়। লুৎফুজ্জামান দোকান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ (খুব কাছ থেকে) থেকে পরপর চার রাউন্ড গুলি চালায় তারা।
গুলির শব্দ ও লুৎফুজ্জামানের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ঘাতকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা দুই অবুঝ শিশুসন্তানকে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “স্বামীর এমন পরিণতি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। যারা আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ যেন তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়।”
খবর পেয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) তরিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার জানান, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জেলাজুড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, লুৎফুজ্জামান কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা হলেও দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে বাস করতেন। এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছিল। নিহত সাংবাদিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
