ফোরটিন ডেস্ক : রাজধানীতে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন অতল গহ্বরে গিয়ে ঠেকেছে, তার এক রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত সামনে এলো। শীর্ষ এক সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া তাণ্ডব ও পরবর্তীতে খুদে বার্তা পাঠিয়ে উপহাস করার এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম ব্যর্থতা ও প্রশাসনিক স্থবিরতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নাম ব্যবহার করে অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের কাছে ১৫ হাজার ডলার চাঁদা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয় এবং টাকা পরিশোধের জন্য ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক হিসেবে বিষয়টিকে প্রতারক চক্রের কাজ মনে করে তিনি এ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আল্টিমেটামের ঠিক দুই দিন পর, ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফেরার পথে চারজন সন্ত্রাসী অটোরিকশার পথ আটকে এই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ভুল চিকিৎসার মনগড়া অজুহাত তুলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। এতে তাঁর ডান চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও রক্তাক্ত হয়ে ফুলে যায়।
বর্তমানে নিজ কর্মস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের ওপর হামলার পর সন্ত্রাসীদের ধৃষ্টতা আরও এক ধাপ বেড়ে যায়। হামলার ঠিক এক ঘণ্টা পর ওই একই নম্বর থেকে ‘হাউ ডু ইউ ফিল নাও’ লিখে উপহাসমূলক খুদে বার্তা পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে ‘মিডিয়া পাঠানো’ ও ‘ঝামেলা বাড়ানোর’ হুমকি দেওয়া হয়।

যদিও ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতা ‘জীবন’ নামে এক যুবককে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়, তবে পুলিশের প্রাথমিক জেরায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটক যুবকের ভাষ্যমতে, কোনো রোগীর চিকিৎসার বিষয় নয়, বরং টাকার লোভ দেখিয়েই তাকে এই হামলায় জড়ানো হয়েছিল।
এত বড় একটি পরিকল্পিত অপরাধের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা চরম হতাশাজনক। পল্টন থানা পুলিশ ঘটনাটিকে সাধারণ ‘পূর্বশত্রুতা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে, যা মূল অপরাধীদের আড়াল করার শামিল। এজাহারে সন্ত্রাসীদের নাম ও হুমকিমূলক বার্তার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যুক্ত না হওয়া এবং পুলিশের ঢিলেঢালা তদন্তে ভুক্তভোগী চিকিৎসক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অবিলম্বে মামলাটি ডিবিতে (গোয়েন্দা পুলিশ) হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর বুকে একজন শীর্ষ পর্যায়ের অধ্যাপক ও চিকিৎসকের ওপর এভাবে হামলা ও পরবর্তীতে প্রকাশ্য হুমকির ঘটনা প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জরুরি সেবাদানকারীরাও এখন কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতা দেশের চিকিৎসা খাতকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।
