ফোরটিন ডেস্ক : সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ক্রমবর্ধমান সুদ এবং অস্বাভাবিক রাজস্ব ঘাটতির জেরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ইতিহাস প্রথমবারের মতো মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার অতিক্রম করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, সম্প্রতি সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং বাকি অংশ সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংস্থার ঋণ।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মাত্র এক দশকেরও কম সময়ে মার্কিন ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবার ক্ষমতা নেন, তখন ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প ও বাইডেন—দুই প্রশাসনের আমলেই করোনা মহামারির জরুরি ঋণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিশাল করছাড়, অবকাঠামো ব্যয় এবং আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঋণ বর্তমানের এই রেকর্ড চূড়ায় পৌঁছেছে।
বাজেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট’-এর প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস সতর্ক করে বলেছেন, ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়নে পৌঁছাতে সময় লেগেছে পাঁচ মাসেরও কম। এমন অনিয়ন্ত্রিত ঋণ বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং বাজেটের অন্যান্য জরুরি খাতে বরাদ্দ কমাতে বাধ্য হবে সরকার।
বর্তমানে মার্কিন সরকারের বার্ষিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের একটি বড় অংশ যাচ্ছে ঋণ পরিশোধের সুদে। ২০২৫ অর্থবছরে যা দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেটকে ছাড়িয়ে গেছে এবং চলতি ২০২৬ অর্থবছরে এটি মেডিকেয়ার কর্মসূচির ব্যয়কেও পেছনে ফেলেছে। দ্রুত কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই ঋণের বোঝা সাধারণ নাগরিকদের পকেট ও পুরো মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
