ফোরটিন ডেস্ক : আমেরিকার রাজনীতিতে রাজনীতিবিদরা ভুল তথ্য বা ভুল উচ্চারণে কথা বললে আলোচনা-সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এবার নিউইয়র্কের বিশিষ্ট রাজনীতিক জোহরান মামদানি পড়েছেন এক ভিন্নধর্মী বিড়ম্বনায় কথা ‘একটু বেশিই ঠিকঠাক’ এবং সাবলীলভাবে বলার কারণে তাকে পড়তে হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহারের সন্দেহে!
নিউইয়র্ক সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দুই হাজার বিনামূল্যের ব্রডওয়ে টিকিটের প্রচারণায় সম্প্রতি বাংলা, ম্যান্ডারিন ও স্প্যানিশ ভাষায় তিনটি পৃথক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন জোহরান মামদানি। এর মধ্যে বাংলা ভাষার ভিডিওটিতে তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ দেখে বহু প্রবাসী বাঙালি প্রশংসায় ভাসান। তবে বিপত্তি ঘটে ম্যান্ডারিন ও স্প্যানিশ ভাষার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। কোনো প্রকার আঞ্চলিক টান বা ভুল ছাড়াই অনর্গল বার্তা দিতে দেখে নেটিজেনদের একাংশ সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, এটি আসল মামদানি নাকি এআই দিয়ে তাঁর কণ্ঠ ও ভাষা পালিশ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক ও গোয়েন্দাগিরি মাত্রা ছাড়ালে শেষ পর্যন্ত মামদানির প্রেস সেক্রেটারিকে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিয়ে বলতে হয় যে, ভিডিওতে কোনো এআই বা প্রযুক্তির কারসাজি নেই; পুরোটাই তাঁর নিজস্ব কণ্ঠে ধারণ করা।
ভিডিওতে মামদানি নিজেও স্বীকার করেন, তিনি প্রমিত ম্যান্ডারিন ভাষায় পারদর্শী নন। স্কুল জীবনে কিছুটা শিখলেও দীর্ঘদিন চর্চা ছিল না, যা তিনি কেবল বক্তব্যের খাতিরে ভালোভাবে মুখস্থ করে উপস্থাপনা করেছেন। একজন ম্যান্ডারিন ভাষাভাষী নেটিজেনও মন্তব্য করেন, ভাষা খুব ভালো না জানলেও মুখস্থ বিদ্যা ও উচ্চারণের চর্চা বেশ নিখুঁত ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরও স্প্যানিশ ভাষায় বক্তব্য দিয়ে একই ধরনের এআই সন্দেহের মুখে পড়েছিলেন মামদানি। সেবার সন্দেহ দূর করতে তাঁর অফিস থেকে ভুল উচ্চারণ ও বেশ কয়েকটি ব্যর্থ টেকের ‘ব্লুপার রিল’ প্রকাশ করতে হয়েছিল।
সব মিলিয়ে প্রবাসী বাঙালি ও নিউইয়র্কবাসীর রায় মামদানির বাংলা ও ম্যান্ডারিন যথেষ্ট প্রশংসনীয় হলেও ডিজিটাল যুগে রাজনীতিবিদদের ‘অতিরিক্ত নিখুঁত’ পারফরম্যান্স সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বুনে দিচ্ছে
