নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের এক সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এক বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে রাবি শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী এই ঘোষণা দেন।
সমাবেশে রাহী বলেন, “আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস ও রাজশাহী জেলাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এসব সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে কেউ প্রকাশ্যে ধরিয়ে দিতে পারলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ছাত্রদলের এই মিছিল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়। তবে প্রকাশ্যে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে এভাবে নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বানকে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষাবিদদের অনেকেই মব জাস্টিস বা গণপিটুনির উস্কানি হিসেবে দেখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে উস্কানি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়কার একটি পুরনো প্রসঙ্গ আবারও আলোচনায় এসেছে। সে সময় ২৬ জুলাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত ডিবির এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গিয়েছিল, যুবদল নেতার এক আত্মীয়কে গ্রেফতারের পর জানা যায়, টাকার বিনিময়ে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষদের সহিংসতায় যুক্ত করা হয়েছিল এবং পুলিশ ও ছাত্রলীগ নিহতের ঘটনায় নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা ছিল।

আগামীকাল ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যখন রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে রাবি ছাত্রদল সভাপতির এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
