নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান স্ত্রী আফরোজী ইউনূস হলেও, তাঁর জীবনের এক বিতর্কিত ও স্বল্পালোচিত অধ্যায় এখন প্রকাশ্যে এসেছে। ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রুশ তরুণী ভেরা ফরোস্টেনকোর প্রেমে পড়েন ইউনূস। ১৯৭০ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যা টিকে ছিল দীর্ঘ ৯ বছর।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভেরা ফরোস্টেনকোর পরিবার রাশিয়ার প্রভাবশালী দাতাদের (ডোনার) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউনূস মূলত সেই দাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কৌশল হিসেবেই ভেরাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন। ভেরার মাধ্যমেই তিনি বহু আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সাথে পরিচিত হন, যা পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখে।
ইউনূস ও ভেরার দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয় যখন ভেরা বুঝতে পারেন যে, দাতাদের কাছ থেকে আনা অর্থ ইউনূস দরিদ্র মানুষের মধ্যে উচ্চ সুদে লগ্নি করছেন। ভেরা এই সুদের ব্যবসার বিরোধিতা করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাশিয়ার দাতাদের কাছ থেকে নতুন করে অর্থ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউনূস ভেরার উপযোগিতা ফুরিয়ে গেছে বলে মনে করেন।
১৯৭৯ সালে মাত্র তিন মাস বয়সী এক কন্যা সন্তানকে কোল থেকে ফেলে রেখে ভেরাকে ডিভোর্স দেন ড. ইউনূস। এই প্রতারণায় চরম ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে ভেরা ফরোস্টেনকো পুরো বাংলাদেশের প্রতি বিতৃষ্ণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল নিউ জার্সিতে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ইউনূসের সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
ইউনূসের নিজ গ্রাম চট্টগ্রামের জোবরার প্রবীণ বাসিন্দা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তারাও এই বিচ্ছেদের কাহিনী জানেন। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের কিস্তির জন্য দরিদ্রদের ওপর অমানবিক চাপের ঘটনাগুলো এখন ইউনূসের ব্যক্তিগত জীবনের এই নিষ্ঠুর আচরণের সাথে মিলিয়ে দেখছেন অনেকে।
দরিদ্রের রক্তচোষা সুদের কারবার এবং প্রথম স্ত্রীর সাথে এমন আচরণের পর তিনি কীভাবে শান্তিতে নোবেল পেলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। গুঞ্জন রয়েছে, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাথে সখ্যতা এবং বিশাল অংকের অর্থের বিনিময়ে তিনি এই সম্মাননা বাগিয়ে নিয়েছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক আজও পিছু ছাড়েনি।
সূত্রঃ ভোরের পাতা
