জাহাঙ্গীরনগর প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে দাবি উঠেছে, তিনি ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
এ অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, অতীতে কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলে তা প্রকাশ্যে পরিষ্কার করা উচিত। অন্যদিকে ভিসিপন্থীরা বলছেন, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রশাসনিক দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল বিষয়। অতীতে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিল এবং এ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিবির নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে অলিখিতভাব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন জামায়াতে ইসলাম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের দলীয় লোক উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া শুরু করে তখন তিনি লবিং করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান। তার এই নিয়োগে শিক্ষক মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সবাই তাকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানেন। কিন্তু জামায়াত কতৃক নিয়োগ পাওয়ার পর সকলের মনে প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি তিনি এতোদিন গুপ্ত হিসেবে রাজনীতি করেছেন! জামাত শিবিরের গুপ্ত রাজনীতির খবর এখন সবাই জানি। কে কোন বেশে গুপ্ত আছে একমাত্র জামাত শিবির ছাড়া কেউ জানে না।
বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত উপাচার্য কামরুলের সহপাঠী বলেন, ‘ছাত্র জীবনের শুরুতে কামরুল শিবিরের কর্মী ছিল এটা আমরা জানতে পারি। তখন কামরুল আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রতিজ্ঞা করে যে সে আর কখনও শিবির করবে না। দীর্ঘ সময়ে আমার আর কোন শিবিরের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত হতে দেখিনি। কিন্তু এতো বছর পর যখন কামরুল জামায়াত কতৃক ভিসি নিয়োগপ্রাপ্ত হয় তখনই জামাতের গুপ্ত রাজনীতির সাথে আমরা দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে ফেলি। এতোদিন তাহলে কামরুল গুপ্ত অবস্থায় ছিল!’
এ বিষয়ে আরও তিন সহপাঠী’র সাথে স্বাক্ষাৎ হয় উপাচার্য কামরুলের শিবির সম্পৃক্ততা নিয়ে।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তার সরাসরি হস্তক্ষেপে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন শিবিরের তৎপরতা বাড়ায় পুরোনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে বিএনপিপন্থী শিক্ষকরা জানান, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অবহিত করা হবে। এবিষয়ে তিনিই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।
তবে ভিসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানতে চেয়ে ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
