জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে ৮ পদে জিতেছে আওয়ামীপন্থীরা।
নির্বাচনে ১৫ টি পদ থাকলেও আওয়ামীপন্থীরা ১২ পদে দাঁড়িয়ে ৮ টিতেই জিতেছেন দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও পাঠাগার সম্পাদক পদে আওয়ামীপন্থীদের কোন প্রার্থী ছিল না।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট একেএম হুমায়ুন কবির ফলাফল ঘোষণা করেন।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬টি পদে বিএনপি জয়ী হয়েছে। আর এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েও ৮ টি পদে বিজয়ী হয়েছে।
তবে নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত একজনও বিজয়ী হতে পারেনি। এনিয়ে টানা দ্বিতীয়বার তাদের কেউই নির্বাচিত হননি।
জানা গেছে, টানা দ্বিতীয়বারের মতো ২৩২ ভোট পেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনিরুল ইসলাম হাওলাদার সভাপতি ও ২১৬ ভোট পেয়ে রফিক উল্যাহ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মনিরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির নজির আহমেদ ১৩৪ ভোট ও রফিকের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্যানেলের নুর উদ্দিন বাবুল ১৪৬ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচিত অন্যরা হলেন সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ (বিএনপি), আবুল খায়ের ভূঁইয়া (আওয়ামী লীগ), সহ-সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জুয়েল (বিএনপি), চাঁদ মনি মোহন (আওয়ামী লীগ), পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মদ মোশারফ হোসাইন (বিএনপি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ), অডিটর রাকিবুল হাসান অপু (আওয়ামী লীগ), সদস্য আজহার উদ্দিন রকি (আওয়ামী লীগ), নুরুল হুদা মুরাদ (স্বতন্ত্র), ইউসুফ মানিক (আওয়ামী লীগ), আবদুল্লাহ আল নোমান (আওয়ামী লীগ), আবদুর রহিম মানিক (আওয়ামী লীগ) ও জাফর আহমদ (বিএনপি)।
এদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সদস্য সচিব নুরুল হুদা পাটওয়ারী গত ২৬ জানুয়ারি একটি নোটিশে জানিয়েছেন, তাদের আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২৬-২৭ সালের লক্ষ্মীপুর আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে কোন পদে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হয়।
যদিও এরপরেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বিভিন্ন পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করেন।
এ বিষয়ে নুরুল হুদা পাটওয়ারীর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ সমর্থিত লক্ষ্মীপুর আইনজীবী সমিতির সাবেক এক সভাপতি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মূলত তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বদ্বিতা করেননি।
নির্বাচন না করার জন্য বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছিল। তারপরও অন্যপদগুলো নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের আটজন নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ভোট গণনা শেষে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। তারাবির নামাজের বিরতির কারণে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে ২০২৬-২০২৭ শেসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৮২জন ভোটারের মধ্যে ৩৭০জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
