ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার ভোটার স্থানান্তর নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ইস্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ‘অস্বাভাবিক হারে’ ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ তুলে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন–এর কাছে। তবে কমিশনের দাবি, এ ধরনের স্থানান্তর নির্বাচনী চক্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যায় ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কোনো আসনেই দুই থেকে তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়নি, কিন্তু মাঠপর্যায়ের তথ্য তাদের কাছে ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। তাঁর দাবি, এমন কিছু হোল্ডিং নম্বর পাওয়া গেছে যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভোটার তালিকাভুক্ত, যা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
এর আগে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও অভিযোগ করেছিলেন, একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের প্রার্থীকে সুবিধা দিতে রাজধানীতে বাইরের ভোটার স্থানান্তরের কৌশল নিয়েছে। বিএনপির এসব অভিযোগের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জনগণের সমর্থনে ভীত হয়েই একটি দল এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনের আগে সারাদেশে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন পড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪ হাজার। এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৭ লাখ ৭১ হাজার স্থানান্তর। প্রশাসনিক অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি স্থানান্তর হয়েছে কুমিল্লা অঞ্চলে, আর সবচেয়ে কম সিলেটে।
ঢাকা জেলার ২০টি আসনে মোট স্থানান্তর হয়েছে ৫০ হাজার ৬৪৭ জন ভোটারের। এর মধ্যে কয়েকটি আসনে চার হাজারের বেশি ভোটার নতুন করে যুক্ত হয়েছেন। এই পরিসংখ্যানই বিএনপির সন্দেহকে আরও জোরালো করছে বলে দলটির নেতারা মনে করছেন।
অন্যদিকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর বলেছেন, ভোটার স্থানান্তর একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সাধারণত ঠিকানা পরিবর্তন, কর্মস্থল বদল বা পারিবারিক কারণে মানুষ ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে থাকেন। তাঁর ভাষ্য, এবারের স্থানান্তরের হার পূর্ববর্তী বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিষয়টি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটির বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নজর এখন আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে।
