এক সময় ফাইয়াজ নামটা ছিল অনেকের চোখে কান্না ধরানো এক গল্প। ‘নিপীড়িত শিক্ষার্থী’ পরিচয়ে তাকে সামনে এনে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছিল সহানুভূতির ঢেউ। সংবাদমাধ্যমে টানা প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন লেখা আর রাজপথে প্রতিবাদ সব মিলিয়ে সে হয়ে উঠেছিল এক প্রতীকি চরিত্র।
কিন্তু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা অন্য রকম হয়ে উঠতে শুরু করে। যে পরিচয়ে তাকে সামনে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এখন ফাইয়াজকে দেখা যাচ্ছে সরাসরি দলীয় রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকায়। যে রাজনীতিকে আগে নিপীড়নের বিপরীত শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, এখন সেই ঘরানার সঙ্গেই তার প্রকাশ্য সম্পৃক্ততা চোখে পড়ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সহানুভূতিকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা নতুন নয়। শিক্ষার্থী পরিচয়, মানবিক সংকট কিংবা নির্যাতনের গল্প এসব বিষয় সাধারণ মানুষের আবেগকে নাড়া দেয়। সেই আবেগ থেকে জনমত তৈরি করা, পরে সেই মুখকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এমন কৌশল আগেও দেখা গেছে।
ফাইয়াজের ঘটনাকে অনেকে সেই ধারারই উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে, যে গল্প একদিন মানুষকে আন্দোলিত করেছিল, সেটি কতটা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল আর কতটা পরিকল্পিতভাবে সামনে আনা হয়েছিল। বিষয়টি এখন শুধু একজন ব্যক্তির গল্প নয়, বরং আবেগনির্ভর রাজনীতির বড় ছবির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
