আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশকে এক ধরনের রাজনৈতিক দোটানায় পড়া দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের। সোমবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে সাময়িকীটি বলেছে, ভোটারদের সামনে এবার এমন দুটি বড় রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে, যাদের অতীত ও অবস্থান দুটিই বিতর্কমুক্ত নয়।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর অনির্বাচিত সরকারের অধ্যায় শেষ করে আবার নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে এই প্রত্যাশার মধ্যেই রাজনৈতিক বিকল্প নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।
সাময়িকীটি লিখেছে, একদিকে রয়েছে অতীতে দুর্নীতি, দলীয়করণ ও দুর্বল শাসনের অভিযোগে সমালোচিত একটি বড় দল; অন্যদিকে রয়েছে ইসলামপন্থী রাজনীতির জন্য পরিচিত একটি দল, যাদের উত্থান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আরও দৃশ্যমান হয়েছে। এই দুই শক্তির মধ্য থেকেই ভোটারদের বেছে নিতে হবে এমন চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
নিবন্ধে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব, নির্বাচনী প্রচারে তাদের সক্রিয়তা এবং জনসমর্থনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অতীত শাসনামলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক সক্রিয়তা, সংগঠনটির নতুন কৌশল এবং মধ্যপন্থার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে এমন আশাবাদ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আদর্শগত বিভাজন ভোটারদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়াকে কঠিন করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশের একজন বিশ্লেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে সাময়িকীটি বলেছে, ভোটারদের সামনে থাকা বিকল্পগুলো অনেকের কাছেই আদর্শ নয়। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে যেমন আশা আছে, তেমনি রয়েছে সংশয়ও। গণঅভ্যুত্থানের সময় যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তার বাস্তব রূপ কী হবে তা এখন নির্ভর করছে ভোটের ফল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
