বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রোববার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহারের সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের তর্ক-প্রতর্ক সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে। শুনানিতে তাজুল ইসলাম নাহারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনি চুপ থাকুন, আপনাকেও আসামি করা হতে পারে।” বিষয়টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মামলার অন্তর্গত।
শুনানিতে মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার অভিযোগ করেন, তার মক্কেলকে সেফ হাউজে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তাকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। আইন অনুযায়ী, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার আইনজীবী উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে নাহার বলেন, তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং পাশের অন্য কক্ষে বসতে বলা হয়।
নাজনীন নাহার আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিসও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বলেন, “আপনি তো জানেন এটার সাজা কি? আপনার মেয়ে এতিম হয়ে যাবে।” নাহার দাবি করেন, এটি নিয়ম বহির্ভূত এবং অবৈধভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।
বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নাহারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি চুপ থাকুন। কথা বলবেন না। আপনিও আসামি হতে পারেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাচ্ছি।” ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার পরে চিফ প্রসিকিউটরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, নাজনীন নাহার আইনজীবী হিসেবে শুনানিতে উপস্থিত আছেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর আরও মন্তব্য করেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বলপূর্বক গুমের অভিযোগ রয়েছে এবং প্রায় এক হাজার মানুষের হত্যায় তিনি জড়িত ছিলেন। এছাড়া, মি. আহসানের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ এবং দুইটি টেলিফোন কথোপকথনের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে এবং তা রেকর্ডে সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে।
নাজনীন নাহারের অভিযোগ ও চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনভর নানারকম আলোচনা চলছে। অনেকেই মন্তব্য শেয়ার করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, আদালতে বিচার চলাকালীন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এমন হুঁশিয়ারি কতটা স্বাভাবিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
