জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ভারতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘দোষী’ সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায় ঘোষণা করে। রায়ে শেখ হাসিনাকে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই মামলায় অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ায় গুরুদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়া ও সম্পত্তির বাজেয়াপ্ত: অভিযোগ দায়ের থেকে রায় ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র ৩৯৭ দিনের নজিরবিহীন দ্রুততায় শেষ হওয়ায় বিচারের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগ এই বিচার প্রক্রিয়াকে “ক্যাঙ্গারু কোর্টের বিচার” এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নির্দেশে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে ‘প্রাণঘাতি অস্ত্র‘ ব্যবহার করে ছাত্র আন্দোলন দমন করা হয়েছিল, যার ফলে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত এবং ৩০ হাজার মানুষ জখম হয়।
রায়ে দণ্ডের পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খানের নামে দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আপিলের সুযোগ নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় তারা আপিল করতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী পলাতক অবস্থায় আপিল শুনানি সম্ভব নয়। আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়া আসামিদের জন্য কোনো আইনি পথ খোলা নেই।
আওয়ামী লীগের প্রত্যাখ্যান: আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এক ভিডিও বার্তায় এই আদালতকে “অবৈধ” এবং রায়কে “রাজনৈতিক প্রতিশোধের” বিচার হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘোষণা দেন।
