ফোরটিন ডেস্ক : মাদকাসক্ত ভাইয়ের জিম্মিদশা থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে পুলিশের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে উল্টো পুলিশেরই ছোড়া ৫টি বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের নর্থ অ্যালবানিতে ম্যাভেরিক লায়ন নামের ওই তরুণকে হামলাকারী ভেবে অতর্কিত গুলি চালায় পুলিশ। এমনকি গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়। পুলিশের চরম অপেশাদারিত্ব, ব্যর্থতা ও বিচারহীনতার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি নর্থ অ্যালবানিতে ম্যাভেরিকের বাড়িতে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। তাঁর ২৭ বছর বয়সী বড় ভাই জন ডাকোটা লায়ন দীর্ঘদিন ধরে মেথামফেটামিন জাতীয় মাদকে আসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে রান্নাঘরের ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন ডাকোটা এবং ছোট ভাই ম্যাভেরিককে জিম্মি করেন। দুই ভাইয়ের বাবা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন এবং তাদের দুজনের পোশাকের সুস্পষ্ট বর্ণনা দেন।
কিন্তু পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই তথ্যের কোনো তোয়াক্কা না করে হামলাকারী ও ভুক্তভোগীকে আলাদা করতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ম্যাভেরিক নিজের কাছে থাকা আত্মরক্ষার ছুরি ফেলে দিয়ে দুই হাত ওপরে তুলে পেছনের দরজা দিয়ে পুলিশের দিকে ছুটে আসেন। কিন্তু মুহূর্তেই পুলিশ কর্মকর্তা ম্যাট থমাস এবং এঙ্গেল দিয়াজ তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেন।
বাড়ির ডোরবেল ক্যামেরার নথিবদ্ধ ফুটেজে দেখা গেছে, বুলেটের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও পুলিশ গুলি চালানো অব্যাহত রাখে। রক্তক্ষরণে কাতরাতে কাতরাতে ম্যাভেরিক চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আপনারা ভুল মানুষকে গুলি করেছেন, আমি হামলাকারী নই, আমি নিজেই জিম্মি ছিলাম।”
এই ভয়ংকর গুলিবর্ষণে গুরুতর আহত হয়ে একটানা চার সপ্তাহ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হয় সেন্ট আনসেলম কলেজের এই শিক্ষার্থীকে। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ফুসফুস, অ্যাপেন্ডিক্স এবং প্লীহার একাংশ কেটে ফেলে দিতে হয়। ফলে তাঁর শিক্ষাজীবন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
এর আগে গত মার্চে কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস পুলিশ কর্মকর্তাদের ‘পরিস্থিতিগত সিদ্ধান্তের’ অজুহাত দেখিয়ে অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিয়েছিল। তবে ম্যাভেরিকের আইনজীবীরা প্রমাণসহ আদালতে তুলে ধরেছেন যে, নিরস্ত্র হয়ে সাহায্য চাওয়ার পরও পুলিশ কোনো যাচাই ছাড়াই প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করেছে। এদিকে মূল অপহরণকারী বড় ভাই ডাকোটাকে গত জুন মাসে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পুলিশের এমন মারাত্মক ভুলের বিচার পেতেই এবার সরাসরি আদালতে লড়াইয়ে নেমেছেন ম্যাভেরিক।
