ফোরটিন ডেস্ক : দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, অমানুষিক নির্যাতন কিংবা সরাসরি হত্যার মুখে পড়ার সুস্পষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আগামী মাসেই বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক বিশেষ ও বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, দূর থেকে নিজের দেশের মানুষের ওপর চলা অবর্ণনীয় জুলুম-নির্যাতন দেখে বাকি জীবন কাটানোর চেয়ে দেশের মাটিতে ফিরে নিজের মানুষদের মাঝেই তিনি মৃত্যুকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবেগাপ্লুত ও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “যদি মৃত্যুই আমার ভাগ্য হয়, তাহলে নিজের দেশের মাটিতে, আমার নিজের মানুষদের মাঝেই আমি মরতে চাই। তাই আমি বাংলাদেশে ফিরে আসব। এই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসেনি।” ভারত থেকে কীভাবে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন তা প্রকাশ না করলেও সেখানে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে নিজের স্পষ্ট ধারণার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমি জানি, দেশে ফিরলে আমাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আমাকে কারাবন্দি করা হতে পারে, নির্যাতন করা হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। এসব আমি ভালোভাবেই জানি। কিন্তু দূর থেকে আমার দেশের মানুষকে কষ্ট পেতে দেখে দেখে আমি বাকি জীবন কাটাতে পারি না।”
বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে দল যখন তীব্র দমন-পীড়ন ও চরম অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই শেখ হাসিনার এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের বার্তা সামনে এলো। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম দেশে কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জ্যেষ্ঠ নেতারা হয় কারাগারে বন্দি, নয়তো নির্বাসনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।
এপির এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত তাঁর দলের অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া লাখ লাখ সমর্থক ও নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও ঘরবাড়ি ছাড়া করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের ব্যবসা ও জীবিকা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ বলেন, “সেখানে কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক বা গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই; বরং পরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।” নিজের শাসনামলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশে কট্টরপন্থি ও উগ্রবাদী চক্রগুলো নতুন করে বিপজ্জনকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং বর্তমান প্রশাসন তাদের আরও বেপরোয়া ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণের বিষয়ে সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে। তবে শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তনে কোনো পরাশক্তির সহায়তা চাওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি বলেন, “সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিই আমি। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় এমনই ছিল। তবে নিজের দেশে ফেরার জন্য আমার কোনো বিদেশি শক্তির আশীর্বাদের প্রয়োজন নেই।”
এপি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং আনীত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি।
