ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারকে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘কমেন্ট সেন্ট্রাল’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধমূলক বিচার বন্ধে এখনই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আগামী ডিসেম্বরে নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনার ঘোষণার পর তাঁর নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বব ব্ল্যাকম্যানসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। চিঠিতে তাঁরা দাবি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের আন্তর্জাতিক মানসম্মত ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁকে যেকোনো ধরনের নির্যাতন, রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম বা শারীরিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দিতে হবে।
ব্রিটিশ এই এমপির অন্যতম প্রধান দাবি হলো—শেখ হাসিনার ওপর যেন কোনোভাবেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা না হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও লিখিত কূটনৈতিক নিশ্চয়তা আদায়ে যুক্তরাজ্যের অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ আরোপের পক্ষে আন্তর্জাতিক অবস্থান জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, গুরুতর অভিযোগ থাকলে বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী।
আইনি সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে ব্ল্যাকম্যান বলেন, শেখ হাসিনার স্বাধীন আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থন, মামলার যাবতীয় নথি পর্যালোচনা এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে আদালত ও বন্দিশালার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকারের দাবি তোলেন তিনি।
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেন এই ব্রিটিশ এমপি। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার, নাগরিক সমাজ ও সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি টেকসই ঐকমত্য গড়ে তোলা দরকার, যাতে প্রতিহিংসা ও বিরোধী দল দমনের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান ঘটে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সামাজিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশন, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জোর তাগিদ দেন।
