নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় প্রখ্যাত মরমী সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের তিন দিনব্যাপী আয়োজিত স্মরণোৎসবের আখড়াবাড়ি থেকে একটি সক্রিয় ‘টাইম বোমা’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধু ও ভক্তদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সোমবার সকাল থেকে তাঁরা মাজার প্রাঙ্গণ বা ধাম ছাড়তে শুরু করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিন ছিল রোববার (১৮ অক্টোবর)। ওইদিন মধ্যরাতে আখড়াবাড়ি চত্বর থেকে পেট্রোলভর্তি দুটি বোতল, লোহার পাইপ ও বৈদ্যুতিক তার যুক্ত একটি সন্দেহজনক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে সোমবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁরা বস্তুটিকে শক্তিশালী ‘টাইম বোমা’ হিসেবে শনাক্ত করেন এবং পরবর্তীতে তা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক সাধু কন্ট্রোল রুমে গিয়ে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পাওয়ার কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আখড়াবাড়ি থেকে সকল সাধু-ভক্তদের নিরাপদে বাইরে সরিয়ে নিয়ে মূল ফটক বন্ধ করে দেয়।
পুলিশের প্রাথমিক তল্লাশীতে একটি সাদা রঙের ব্যাগে লাল টেপ দিয়ে পেঁচানো বোমা সদৃশ বস্তু, দুই লিটার পেট্রোল ও দুটি সার্কিট উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই নাশকতার চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধু ও ভক্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী কল্পনা খাতুন ও ভক্ত গোলাম সরোয়ার অভিযোগ করেন, রাতে সন্দেহজনক বস্তুটি দেখতে পেয়ে প্রথমে পুলিশকে জানানো হলেও তারা শুরুতে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে ছুটাছুটি করার পর একপর্যায়ে পুলিশ নড়েচড়ে বসে।
ভক্তদের আরও অভিযোগ, বোমা উদ্ধারের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন বা অপরাধীদের ধরার চেয়ে মাঝরাতে সাধু-ভক্তদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁদের আখড়াবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। কনকনে শীতে শত শত সাধু-ভক্তকে বাইরে দাঁড়িয়ে চরম অপমানিত হতে হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরও এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধু-গুরুরা হতাশ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে কীভাবে এই বিস্ফোরক আখড়াবাড়িতে প্রবেশ করল, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও এর নেপথ্যে থাকা কুচক্রী মহলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভক্তরা।
