লেখকঃ আনিস আলমগীর
অনেকে প্রশ্ন করেন, আমি কেন ড. ইউনূসের কড়া সমালোচনা করি? তাদের উদ্দেশে সোজা কথা বলি- টকশো বা রাজনৈতিক আলোচনায় সাম্প্রতিক ইস্যুই আসবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা, ড. ইউনূস, তারেক রহমান এবং তাদের সরকারের প্রসঙ্গ আসবেই। প্রাসঙ্গিক আলোচনা বাদ দিয়ে শেখ হাসিনা আর তারেক জিয়ার মাঝখানে ইউনূসের নামটা মুছে দিয়ে কি ৩০০ বছর আগের শায়েস্তা খানের গল্প শোনাব?
যারা আমাকে ড. ইউনূসের ‘সমালোচক’ বানিয়ে দিয়েছেন, তারা একটা কথা ভুলে যাচ্ছেন। তিনি যখন সাধারণ নাগরিক বা প্রাইভেট পারসন ছিলেন, তখন তো তার সমালোচনা করিনি। কিন্তু তিনি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছেন, তখন একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তার শাসনব্যবস্থার গঠনমূলক সমালোচনা করার শতভাগ অধিকার আমার আছে। নাকি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলেও তার সমালোচনা করা যাবে না? বাটপারকে বাটপার বলা যাবে না?
অন্ধ ভক্তদের সঙ্গে আমার অমিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক অন্ধত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নেতার যেকোনো অহেতুক বা ক্ষতিকর পদক্ষেপও তারা চোখ বন্ধ করে গিলে নেন। ভারতের গোমূত্র বিক্রির অন্ধ অনুকরণের মতো, তাদের নেতারা যদি কাল থেকে নিজেদের তরল বর্জ্য বোতলজাত করে বিক্রি শুরু করেন, আমার ধারণা, ভক্তরা তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে কিনবেন। কেউ হয়তো বলবেন, ‘এটা সাধারণ বর্জ্য নয়, নেতার বিশেষ অবদান!’
একজন শাসক হিসেবে ড. ইউনূসকে আমি চরম ব্যর্থ, মব-সংস্কৃতির প্রশ্রয়দাতা এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ মনে করি। তার ওপর আমি নিজেই তার প্রশাসনিক জুলুমের শিকার। কাজেই আপনাদের অন্ধ ভক্তির চশমা দিয়ে দেখা আর আমার নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ দিয়ে দেখার মধ্যে মিল থাকবে, এমন আশা করেন কীভাবে? চশমার পাওয়ার যখন আলাদা, দৃশ্যও তো আলাদা হবে!
আজ দেখলাম, এক সাবেক সাংবাদিক ফেইসবুকে লিখেছেন- ‘যাদের ইউনূসের নখের যোগ্যতা নেই, তারাও তার সমালোচনা করে!’
একজন সাংবাদিকের চিন্তাভাবনা কতটা দেউলিয়া হলে সমালোচনার জবাব দিতে যুক্তির বদলে নখের যোগ্যতা মাপতে হয়! তাহলে কি এখন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার সাফল্য মাপা হবে নখ, চুল আর পশমের দৈর্ঘ্য দিয়ে? অন্ধ অনুগামীদের কাছে যদি নেতার নখেরও এত দাম থাকে, তাহলে তার কামিয়ে ফেলা পশমের বাজারমূল্যও একদিন জানা দরকার। হয়তো জানতে পারবো ওইসবের বাজার মূল্য এবং ওই সাংবাদিকের মূল্যের সমান।
মনে রাখবেন, কোনো মানুষই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। নোবেল পুরস্কার সম্মানের, কিন্তু সেটা কোনো শাসককে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে তুলে দেওয়ার লাইসেন্স নয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে কাজের হিসাব দিতে হবে- তিনি ইউনূস হোন, শেখ হাসিনা হোন কিংবা তারেক রহমান।
হে প্রভু, এই অন্ধ ভক্তদের অন্তত সত্য দেখার আলো দাও!
