ফোরটিন ডেস্ক : দেশের শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক স্থাপনাকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেশি। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ১৫টি ব্যাটালিয়নের তালিকায় চাঁদাবাজ হিসেবে নাম রয়েছে ৩ হাজার ৫৮৬ জনের। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুটি ব্যাটালিয়নের তালিকাতেই রয়েছেন ১ হাজার ৬৮ জন।
এসআরবির তালিকায় চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রয়েছে আলোচিত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের তথ্য। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাও রয়েছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুত করা ‘ব্যাটালিয়ন অনুযায়ী আলোচিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং ছিনতাইকারীর সামারি’ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এসআরবির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তালিকাটি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, তালিকা প্রস্তুতের কাজ এখনো চলমান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
চাঁদাবাজের তালিকায় শীর্ষে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম
এসআরবির তালিকায় চাঁদাবাজের সংখ্যায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল। এ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১১-এর তালিকায় নাম রয়েছে ৫৬৫ জনের।
দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম অঞ্চল। এসআরবি-৭-এর তালিকায় চাঁদাবাজ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০৩।
এসআরবি-১১-এর আওতায় নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট কিছু অংশ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে শিল্পকারখানার ঘনত্ব বেশি।
অন্যদিকে এসআরবি-৭-এর দায়িত্বাধীন এলাকার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ও পুরো চট্টগ্রাম জেলা, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং কক্সবাজার।
এই দুই ব্যাটালিয়নের তালিকায় থাকা ১ হাজার ৬৮ জন মোট তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজের প্রায় ৩০ শতাংশ। শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগের সম্পর্ক নিয়ে এ পরিসংখ্যান নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঢাকার পাঁচ ব্যাটালিয়নের তালিকায় ১ হাজার ২৫৪ জন
রাজধানী ও আশপাশের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের তালিকায় চাঁদাবাজ হিসেবে নাম রয়েছে ১ হাজার ২৫৪ জনের। এর মধ্যে উত্তরা, মিরপুর ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা তিনটি ব্যাটালিয়নের তালিকায় রয়েছে ১ হাজার ১৭ জন।
এসআরবি-১-এর আওতায় উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, গুলশান, বনানী, ভাটারা, রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এ ব্যাটালিয়নের তালিকায় নাম রয়েছে ৩৯৩ জনের।
মিরপুর, শাহ আলী, পল্লবী, রূপনগর, ভাষানটেক, দারুস সালাম, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, সাভার ও মানিকগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৪-এর তালিকায় রয়েছে ৩৪৭ জন।
কেরানীগঞ্জ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১০-এর তালিকায় নাম রয়েছে ২৭৭ জনের। এ ব্যাটালিয়নের আওতায় ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, শ্যামপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, সূত্রাপুর, বংশাল, চকবাজার, কোতোয়ালী, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা রয়েছে।
অন্যদিকে তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, শেরেবাংলা নগর, নিউ মার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এসআরবি-২-এর তালিকায় রয়েছে ২১৫ জনের নাম।
শাহজাহানপুর, পল্টন, খিলগাঁও, সবুজবাগ, রামপুরা, হাতিরঝিল, শাহবাগ ও রমনা এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৩-এর তালিকায় চাঁদাবাজ হিসেবে নাম রয়েছে ২২ জনের।
শিল্পাঞ্চলের বাইরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নাম
চাঁদাবাজির অভিযোগ শুধু শিল্পাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তালিকাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তির নাম রয়েছে।
খুলনা মহানগর ও জেলা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল ও গোপালগঞ্জের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-৬-এর তালিকায় রয়েছেন ২০০ জন।
সিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা এসআরবি-১২-এর তালিকায় রয়েছেন ২৭৭ জন।
এ ছাড়া রাজশাহী অঞ্চলের এসআরবি-৫-এর তালিকায় ২১৬ জন, বরিশাল অঞ্চলের এসআরবি-৮-এর তালিকায় ১৪৯ জন, সিলেট অঞ্চলের এসআরবি-৯-এর তালিকায় ১২৩ জন, রংপুর অঞ্চলের এসআরবি-১৩-এর তালিকায় ১৮৭ জন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের এসআরবি-১৪-এর তালিকায় ৭০ জন এবং কক্সবাজার অঞ্চলের এসআরবি-১৫-এর তালিকায় ৭২ জনের নাম রয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত তালিকার হিসাব। তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন অর্থ নয়।
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতারা
এসআরবির তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতার আটকের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে খিলক্ষেত থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শাহিনুর আলম মারফতকে আটক করে এসআরবি। তাঁর নামও চাঁদাবাজির তালিকায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হাফিজের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অভিযোগে এসআরবি-১ তাঁকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছিল। পরে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একই সময়ে শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপনকেও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক করা হয়। পরে তাঁকে একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।
এসআরবি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্বপনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজির বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি পোশাক কারখানা থেকে চাঁদা আদায়, হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা ঘিরে সিন্ডিকেট এবং ফুটপাত ও বস্তি এলাকায় চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বপন ও মারফতের পরিবারের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা জরুরি।
তালিকায় ২ হাজার ২৫৮ আলোচিত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ৫৩৪
এসআরবির ১৫টি ব্যাটালিয়নের তালিকায় আলোচিত সন্ত্রাসী হিসেবে নাম রয়েছে ২ হাজার ২৫৮ জনের। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের তালিকায় সর্বোচ্চ ৪০৮ জনের নাম রয়েছে। এরপর ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৩৯ জন এবং সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে ৩২৪ জনের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসআরবি-৩-এর দায়িত্বাধীন শাহজাহানপুর অঞ্চলে আলোচিত সন্ত্রাসীর নাম নেই।
এ ছাড়া পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটটির তালিকায় ছিনতাইকারী হিসেবে নাম রয়েছে ৫৩৪ জনের। এর মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এসআরবি-২-এর তালিকায় রয়েছে ১৩০ জন।
এসব পরিসংখ্যান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে তালিকায় নাম থাকা এবং অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
২৭ মামলার আসামি আল-আমিন গ্রেপ্তার
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে ২৭টি মামলার আসামি মো. আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিন ওরফে ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি।
গত ১ অক্টোবর রামপুরার টিভি রোড থেকে আল-আমিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার এবং ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুঞ্জবন এলাকা থেকে সহযোগী মো. কাওছার খানকে আটক করা হয় বলে জানায় সংস্থাটি।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, সহযোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁওয়ের ভূঁইয়াপাড়ার একটি টিনশেড ঘর থেকে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১২ জুন হাতিরঝিলে ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যা মামলায় আল-আমিন এজাহারভুক্ত আসামি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আল-আমিন তাঁর সমমনা সহযোগীদের ঢাকায় এনে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় তালিকা নয়: এসআরবি প্রধান
এসআরবির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে না। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তালিকাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার লক্ষ্য হলো প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি না করা।
অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদারের কথা জানিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গোয়েন্দা তালিকার ভিত্তিতে গত দুই মাসে শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজিসংক্রান্ত মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
নতুন ইউনিটের দায়িত্ব ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি গঠনের বিল গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। র্যাবের জনবল, সম্পদ, নথিপত্র, স্থাপনা, তহবিল ও দায়দায়িত্ব নতুন ইউনিটে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর ও চাঁদা দাবির একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআরবিকে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগে তালিকা তৈরি ও অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের তথ্যের নির্ভুলতা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা শুধু তালিকার আকার দিয়ে নয়, অভিযোগ যাচাই, তদন্তের ফল এবং আইন অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপ দিয়েও মূল্যায়ন করতে হয়।
