নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরাহফেরত যাত্রীদের ট্রলি সংকট, লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব এবং দীর্ঘ সারিতে বসার সুব্যবস্থা না থাকার প্রত্যক্ষ চিত্র ফেসবুক লাইভে তুলে ধরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দন্ত চিকিৎসক ও কনটেন্ট নির্মাতা ডা. ওরাকাতুল জান্নাত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরের অভ্যন্তরেই এমন চরম অব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নাগরিক ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন, যা শুক্রবারে লাখ লাখ মানুষের নজর কাড়ে।
ডা. জান্নাতের দেওয়া তথ্যমতে, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করলেও ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় কেবল একটি ট্রলি পেতেই প্রায় ৪০ মিনিট এবং চূড়ান্তভাবে লাগেজ হাতে পেতে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
বাংলাদেশের দেওয়ানি বিমান চলাচল আইন ২০১৭ এবং আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO)-এর অ্যানেক্স ৯-এর বিধিমালা অনুযায়ী, যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছন্দ ও সম্মানজনক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) যৌথভাবে টার্মিনাল নিরাপত্তা, ট্রলি সরবরাহ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং তদারকির সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত।
ভিডিওতে ডা. জান্নাত দাবি করেন, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ ক্লেইম এলাকায় ৫০০ মিটার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি তৈরি হলেও শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য সেখানে বসার কোনো ন্যূনতম ব্যবস্থা ছিল না।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওমরাহফেরত যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পবিত্র জমজমের পানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং কোনো সুস্পষ্ট কারণ বা নির্দেশনা কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের প্রদান করেনি।
একই সময়ে শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও একই প্রেক্ষাপটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং ট্রলি সেবার এই হযবরল পরিস্থিতি নিয়ে দেশে ও বিদেশে প্রবাসী যাত্রীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী নাগরিকেরা দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি রক্ষায় অবিলম্বে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যাত্রীসেবা আধুনিকীকরণের দাবি জানিয়েছেন।
