নিজস্ব প্রতিবেদক : কোনো সুস্পষ্ট বাণিজ্যিক পরিকল্পনা, বাজার জরিপ কিংবা নেটওয়ার্ক রুট কৌশল ছাড়াই ইতিহাসের বৃহত্তম বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মোট ৩৫টি নতুন বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের বোয়িং চুক্তির পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে এয়ারবাস কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটির মোট বহর দাঁড়াবে ৫৪টিতে।
তবে বর্তমান ১৯টি প্লেন পরিচালনা করতেই যেখানে ককপিট ক্রুর ২৮ শতাংশ ঘাটতি এবং রাষ্ট্রীয় দেনা ৭ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, সেখানে এত বড় বহর কেনার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় এভিয়েশন আইন ও আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নির্দেশিকা অনুযায়ী যেকোনো এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পূর্বে পূর্ণাঙ্গ বাজার সম্ভাব্যতা, অর্থায়নের গ্যারান্টি এবং প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামোর অনুমোদন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। বাণিজ্যিক ব্লুপ্রিন্ট ব্যতিরেকে উড়োজাহাজ কেনা হলে রাষ্ট্রীয় তহবিল মারাত্মক অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়ে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদ যৌথভাবে দেশের এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়ন ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি তদারকি করছে। আন্তর্জাতিক আকাশপথে দেশীয় এয়ারলাইন্সের বাজার অংশীদারত্ব বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কারের আইনি প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।
সরকারের কেনাকাটার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাবেক এয়ারলাইনস নির্বাহী উইং কমান্ডার এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, “পাইলট, প্রকৌশলী ও কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি কোন রুটে উড়োজাহাজগুলো চলবে এবং কীভাবে টেকসই রাজস্ব আসবে বিমানকে তার স্পষ্ট পরিকল্পনা আগেই তৈরি করতে হবে।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানান যে, বিদ্যমান উড়োজাহাজগুলোর দৈনিক উড্ডয়ন ঘণ্টা যেখানে সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম, সেখানে অলস প্লেন কিনে রাখা বিমানের অবচয় ও আর্থিক বোঝা আরও বাড়াবে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য শুল্কঝুঁকি কমানো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পটভূমিতে এই জোড়া উড়োজাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত হয়েছে।
বিদ্যমান পাইলট সংকট, পার্কিং বে ও ক্রু ঘাটতির মতো মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিক ও এভিয়েশন বিশ্লেষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বেবিচকের সাবেক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানকে আগে নিজস্ব পেশাদারিত্ব, রুট পারমিট ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, অন্যথায় বহর আধুনিকায়নের এই উদ্যোগ বড় আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখা দেবে।
সূত্রঃ টিবিসি বাংলা
