নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শ্যামপুর থানাধীন জুরাইন রেলওয়ে ব্রিজের নিচের একটি পাবলিক টয়লেটের পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক কিশোরের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে পচনধরা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফৌজিদারি কার্যবিধি ও পোস্টমর্টেম আইন সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী যেকোনো অজ্ঞাত বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত সম্পাদনের সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিহত ব্যক্তির সঠিক পরিচয় শনাক্তকরণ ও অপরাধীকে খুঁজে বের করতে বিচারিক প্রক্রিয়া বহাল রাখা দরকার।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট যৌথভাবে আলামত সংগ্রহ ও নিহতের পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম তদারকি করছে। প্রযুক্তির সাহায্যে বায়োমেট্রিক তথ্য ও আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামপুর থানার উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, লাশের কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত মারাত্মক পচন ধরেছিল এবং বিকেল নাগাদ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নিহতের কপালের ডান পাশে গভীর ফাটা দাগ রয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মাথায় বা কপালে মারাত্মক আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, পরনে গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট থাকা আনুমানিক সেই কিশোরের নাম-পরিচয় বা স্বজনদের সন্ধান এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।
জনবহুল জুরাইন এলাকায় গণশৌচাগারের অব্যবহৃত কক্ষ থেকে এমন পচনধরা কিশোরের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্যামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তকরণের পাশাপাশি এটি হত্যাকাণ্ড কি না তা নিশ্চিতে আশেপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।
