ঢাকা ব্যুরো : রাজধানীর মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরালো হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শ্রমিকদের বেঁচে থাকার তাগিদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের মূল অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া ও কর্মপরিবেশের সংকট আড়ালে পড়ে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি মিরপুরে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেন, শ্রমিক ছদ্মবেশে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে শ্রমিক অসন্তোষে জামায়াত ও এনসিপির উসকানির অভিযোগও তোলেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলমের শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশের বিষয়টিকেও রাজনৈতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত হিসেবে উপস্থাপন করেন সরকারের এই কর্মকর্তা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজবুল ইসলাম। গণমাধ্যমে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তুলে ধরে আন্দোলন সংশ্লিষ্টতার নানা ভিডিও প্রচার করা হলেও প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি পড়াশোনার খরচ ও সংসারের ব্যয় নির্বাহে মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত। ফলে রাজনৈতিক আদর্শ বা অতীত পরিচয় যা-ই হোক না কেন, বাস্তব জীবনে একজন নিয়মিত পোশাকশ্রমিক হিসেবে তাঁর মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে নামার অধিকার খর্ব হয় কি না তা নিয়ে আইনি ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তুমুল আলোচনা চলছে।
মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের অর্ধশতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের এই অসন্তোষ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনায় নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শ্রমিক নেতাদের মতে, কোনো আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানী মহলের নাশকতা করার চেষ্টা যেমন শক্ত হাতে দমন করা জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে সাধারণ লাখ লাখ পোশাকশ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও জীবন-জীবিকার সংকটকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
