রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ডেস্ক : গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দাঁড় করানো ‘পালিয়ে যাওয়ার’ বয়ানকে সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা আখ্যা দিয়ে নিজের অবস্থান খোলাসা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি; বরং চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সংকটপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও সেনাবাহিনীর নিজস্ব নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ হিসেবেই বিমানে করে তাঁকে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের সাথে সাম্প্রতিক এক আলাপচারিতায় শেখ হাসিনা জানান, ৫ আগস্টের সেই জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর জীবনরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীর নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক এই পদক্ষেপকে কোনো অবস্থাতেই ‘পলায়ন’ বলা যায় না। এটি ছিল মূলত একটি রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা শিষ্টাচার ও প্রটোকলের অংশ।
একই সঙ্গে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। চরম আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি জানান, বর্তমান সরকার কিংবা কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রই তাঁর দেশে ফেরা রুখতে পারবে না। কোটি কোটি সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের আস্থার ওপর ভর করে সব আইনি ও রাজনৈতিক চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে ইনশাআল্লাহ আগামী ডিসেম্বরেই বীরের বেশে দেশের মাটিতে পা রাখবেন তিনি।
শেখ হাসিনার এই প্রত্যক্ষ ও বলিষ্ঠ বক্তব্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন তোলপাড়। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা উদ্দীপনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘পলায়ন’ ন্যারেটিভকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বছর শেষেই মাঠে ফেরার এই ঘোষণা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি করেছে।
