ফোরটিন ডেস্ক : সংসারের টানাপোড়েন সামলাতে মা ঘরে বসে বানাতেন চাটনি আর টিফিন, আশপাশের শিশুদের দেখাশোনার জন্য চালাতেন ছোট একটি ডে-কেয়ার সেন্টার। আর সেই চাটনির বয়াম সাজানো থেকে শুরু করে সংসারের সব কাজে মায়ের একমাত্র সহযোগী ছিলেন ছোট্ট এক মেয়ে। দারিদ্র্যের সাথে যুদ্ধ করা সেই মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে বলিউডের রুপালি পর্দায় নাম কুড়িয়েছেন।
তিনি ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘মিশন কাশ্মীর’ কিংবা ‘সিংহাম’-খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি।
সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় নিজের শৈশবের সেই অভাব-অনটন এবং পরবর্তীতে অর্থ উপার্জনের পর আর্থিক শৃঙ্খলা শেখার কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।
সোনালি জানান, তাঁর শৈশব কেটেছিল একেবারে নিম্নবিত্ত পরিবারে, যেখানে ট্যাক্স দেওয়া তো দূরের কথা আয়কর দেওয়ার ন্যূনতম সীমায় পৌঁছানোর সামর্থ্যও পরিবারের কারও ছিল না।
পড়াশোনা আর অভিনয়ের হাত ধরে যখন সাফল্য আসতে শুরু করল, তখন অর্থাগমের সাথে সাথে তৈরি হলো নতুন এক ধাক্কা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আয়কর সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে বিশাল অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছিল তাঁকে। সেই জরিমানার চেকে সই করার সময় ডুকরে কেঁদে উঠেছিলেন সোনালি। কারণ জীবনে এত টাকার মুখ তিনি একসঙ্গে কখনোই দেখেননি, আর সেই অর্থই জরিমানায় চলে যাচ্ছিল।
তবে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাই তাঁকে পরিণত করেছে বলে জানান সোনালি। তিনি উপলব্ধি করেন, কেবল অর্থ উপার্জন করলেই চলে না, সেই উপার্জনের সঠিক হিসাব, বিনিয়োগ ও কর ব্যবস্থাপনা বোঝা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ অত্যন্ত সচেতনতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেন। এমনকি স্বামী নচিকেতের সাথেও নিজের আর্থিক হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা রাখেন; দুজনের আয়কে কখনো একসঙ্গে মেলান না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে সোনালি কুলকার্নির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হলেও, এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সরকারি আর্থিক নথি পাওয়া যায়নি। তবে কোটি টাকার অংক ছাপিয়ে সোনালির কাছে তাঁর জীবনের আসল অর্জন—চাটনি বিক্রির সেই অভাবী দিনগুলো পেরিয়ে নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লড়াই।
