জাতীয় ডেস্ক : ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় চরম খামখেয়ালিপনা ও স্বাস্থ্য খাতের নজিরবিহীন প্রশাসনিক ব্যর্থতায় দেশে সহস্রাধিক নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর দায়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআই-এর ট্রাস্টি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যের সূত্র টেনে তিনি ড. ইউনূসের তীব্র সমালোচনা করেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্ফোরক বার্তায় জয় অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি বাদ দিয়ে ২০২৫ সালে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হামের টিকা সংগ্রহের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনূস প্রশাসন। এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটবে এবং দেশে টিকার সংকট তৈরি হয়ে মহামারি দেখা দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ অন্তত পাঁচবার লিখিত সতর্কবার্তা দিয়েছিল। এমনকি দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রচলিত পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ অব্যাহত রাখার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সব ধরনের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সতর্কতা উপেক্ষা করে একগুঁয়েমি বজায় রাখে তৎকালীন সরকার।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রতিরোধযোগ্য এই সংক্রামক ব্যাধিতে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অন্তত ১,১৪৭ জন শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৯৪ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী অবুঝ শিশু। আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখেরও বেশি মানুষ।
এই অমানবিক বিপর্যয়ের বিপরীতে ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংবর্ধনা পাওয়াকে ‘নিষ্ঠুর প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, হাজার হাজার অবুঝ শিশুর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে দেশের ঘরে ঘরে হাহাকার ছড়িয়ে দিয়ে ড. ইউনূস এখন বিদেশে নিজের রাজনৈতিক মিত্রদের কাছ থেকে নির্লজ্জের মতো পুরস্কার গ্রহণ করে বেড়াচ্ছেন।
জয় আরও যোগ করেন, একদিকে দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে হাজার হাজার মানুষকে বিনা বিচারে মিথ্যা মামলায় বন্দি রাখা হয়েছিল, অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাততালি কুড়াচ্ছে যা দেশের ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে চরম প্রতারণা ও এক মানবতাবিরোধী উপহাস।
