নিজস্ব প্রতিবেদক, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে করা আটটি মামলার মধ্যে তিনটিতে জামিন পেয়েছেন তিনি। বাকি পাঁচটিতে জামিন পেতে হাইকোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম লিটন আহমেদ।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার সুমনসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আটক, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য ও ফেডারেল পার্লামেন্টে উত্থাপনের পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান অ্যাডভোকেট লিটন আহমেদ।
তিনি বলেন, ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে বর্তমানে আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্ট থেকে দুটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। বাকি মামলাগুলোর কয়েকটিতে জামিনের বিষয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। এসব মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হাইকোর্টের দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি শেষে বাকি মামলাগুলোতে জামিনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আটক ও তাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে লিটন আহমেদ বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির উদ্বেগ প্রথমে দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন এমপি স্টিভেন লরেন্স। পরে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে তুলে ধরেন সংসদ সদস্য জেমি চ্যাফি। এর ধারাবাহিকতায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং ক্যানবেরায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্বেগের কথা জানান।
লিটন আহমেদ বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার সব সময় মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে সোচ্চার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আটক এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে দেশটির প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার যেন যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনা করে। বিষয়টি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলেও আলোচিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গত ১ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্য জেমি চ্যাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব উদ্বেগ সামনে এসেছে, সেগুলো তার বিবেচনায় রয়েছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক এবং বিশেষ করে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও আটকের বিষয়েও তিনি অবগত বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।
পেনি ওং আরও বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে যাদের পরিবার-পরিজন রয়েছেন, এমন বহু অস্ট্রেলীয় নাগরিকের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, তার দেশ সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঢাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আইনজীবী লিটন আহমেদ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি আটক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মৌলিক ও মানবাধিকার যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সরকারের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আটক ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি সমুন্নত রাখবে।
