লেখকঃআনিস আলমগীর
ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে ১৫ অক্টোবরের সন্ধ্যায় যখন ‘হিলারি রোডহাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ ড. ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন যেন এক মধুর ‘পিঠ চুলকানি’র সানাই বেজে উঠেছিল! হিলারি দিলেন ঝকঝকে অ্যাওয়ার্ড, আর ড. ইউনূস চিরচেনা অমায়িক হাসিতে তা লুফে নিলেন। এ যেন বহু পুরোনো বন্ধুর দেওয়া চিরচেনা ভালোবাসার ফিরতি উপহার!
দেশের মানুষের চরম বিপদে বা বন্যায় এক পয়সা দানের বালাই না থাকলেও, ওয়াশিংটনের দরবারে ডলার ছিটাতে কোনো কৃপণতা ছিল না। একদিকে মার্কিন দাতাসংস্থা ইউএসএআইডি (USAID)-এর বিপুল ফান্ড ঢুকলো গ্রামীণ প্রকল্পে, অন্যদিকে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ ও ‘গ্রামীণ রিসার্চ’-এর সৌজন্যে লাখ লাখ ডলারের তহবিল গিয়ে জমা হলো ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে! প্রাতিষ্ঠানিক ফি কিংবা স্পনসরশিপের বাহারি নাম দিয়ে এই যে মার্কিন ক্ষমতার মূল কেন্দ্রে টাকা পাঠানো হলো- এ যেন এক নিখুঁত ও চতুর কর্পোরেট লেনদেন!
এই চমৎকার ডলারে-ডলারে কোলাকুলির ফসলও মেলে হাতেনাতে। ২০০৬ সালে নোবেল কমিটির ওপর মার্কিন কূটনৈতিক লবিংয়ের অদৃশ্য চাপ, ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামার হাত থেকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ এবং ২০১৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসের ‘কংগ্রেসশনাল গোল্ড মেডেল’- সম্মাননার এই বিশাল পাহাড় তো মূলত সেই ডলারের বিনিয়োগের বড়সড় রিটার্ন! একেই বলে আসল পার্টনারস ইন ক্রাইম!
এক হাত দিলে আরেক হাত পায়, এক পিঠ চুলকালে অন্য পিঠ আরাম পায়- বিশ্ব রাজনীতির এই ‘বাটপার নীতি’র খেলা যদি এমনই হয়, তবে আর দেরি কেন? ইউনূস পেয়েছেন হিলারি অ্যাওয়ার্ড, হিলারি ম্যাডামকে এবার দ্রুত একটা খাস “ইউনূস গোল্ড মেডেল” কিংবা “গ্রামীণ অ্যাওয়ার্ড” উপহার দিয়ে চিরদিনের মতো এই লেনদেনের দেনা-পাওনার হিসাব চুকিয়ে ফেলা হোক!
