আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যে ক্লাসরুমটি একসময় ছিল তার নিজের পরিচিত জগত, সেখানেই চরম ধ্বংসযজ্ঞ নামিয়ে আনল ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে সাবেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (স্পেশাল নিডস) শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষকে নিশানা করে নারকীয় হামলা চালিয়েছে জন জে. গ্রিফিন নামের ওই তরুণ।
এতে তিন অবুঝ শিশু ও এক শিক্ষক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবের শেষ পর্যায়ে এক প্রত্যক্ষদর্শীর গুলিতে হামলাকারী নিজেও নিহত হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে হামলার শিউরে ওঠার মতো প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ১২-গেজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান নিয়ে স্কুলের সীমানায় পৌঁছায় গ্রিফিন। অস্ত্রটি আগে পাঁচিলের ওপর দিয়ে ভেতরে ছুড়ে ফেলে সে, এরপর নিজে দেওয়াল টপকে ক্যাম্পাসে ঢোকে। প্রথমে মূল ফটক দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলেও উপস্থিত দুজনের বাধার মুখে পিছিয়ে যায়। তবে ক্ষান্ত না হয়ে ভবনের পেছনের দরজার সিকিউরিটি লক গুলি করে গুঁড়িয়ে দিয়ে সরাসরি নিজের সাবেক সেই স্পেশাল-নিডস ক্লাসরুমে চড়াও হয়।
শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে গ্রিফিন। গুলির মুখে পড়ে ৫, ৮ ও ১১ বছর বয়সী তিন নিষ্পাপ শিশু এবং ক্লাসের এক শিক্ষক প্রাণ হারান। রক্তপাতের এখানেই শেষ নয়; হুইলচেয়ারে থাকা ৭ বছরের এক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সী আরেক শিক্ষক গুরুতর আহত হন।
হামলা আরও দীর্ঘ হতে পারত, তবে উপস্থিত এক সাহসী প্রত্যক্ষদর্শী নিজের কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত লুকানো অস্ত্র দিয়ে তাৎক্ষণিক গুলি ছুড়লে ক্লাসরুমেই লুটিয়ে পড়ে হামলাকারী গ্রিফিন।
তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শটগানটি গত আগস্টেই গ্রিফিনের জন্মদিনে তার মা শনতাই নিকারসনের নামে আইনসম্মতভাবে কেনা হয়েছিল। চোখের জলে ভেঙে পড়া নিকারসন জানান, এমন ভয়াবহ পরিণতি তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি; সুযোগ থাকলে যেকোনো মূল্যে ছেলেকে থামাতেন।
অথচ ২০২০ সালে মহামারির সময় ছেলের বিশেষ শিক্ষার ঘাটতির কথা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ঘরে নয়, বিশেষ স্কুলেই ছেলের ভবিষ্যৎ ভালো হবে। কিন্তু সেই প্রিয় বিদ্যাপীঠেই নিজের মায়ের কেনা অস্ত্র নিয়ে এই মারণখেলায় মাতল গ্রিফিন।
